❐ নিজস্ব সংবাদদাতা
চট্টগ্রামে বিএনপি অধ্যুষিত উপজেলা রাউজানে চাঁদাবাজ ও ডাকাত দলের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের এক রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ১২ সদস্য আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ ১লা অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে রাউজান উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, স্থানীয় কুখ্যাত ডাকাত জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস-এর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।
গত ২৫শে সেপ্টেম্বর স্থানীয় আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে তারা। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার রাতে পুলিশ ডাকাত আলমের আস্তানায় অভিযানে যায়।
অভিযানকারী দল ডাকাত আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতরে অবস্থানরত ডাকাত আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ (৩৫) এবং মো. বাচাসহ (৪৫) একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে আকস্মিক এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দ্বিপক্ষীয় এ বন্দুকযুদ্ধে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
গোলাগুলির একপর্যায়ে দিলদার হোসেন নামে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকলে পুলিশ তাকে আটক করে। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মূল হোতা ডাকাত আলম ও আজিজ বসসহ চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও আটককৃত দিলদারের হেফাজত থেকে ১টি দোনলা বন্দুক, ১টি একনলা কাটা বন্দুক, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, ৪টি রামদা, ২টি কটি এবং ২টি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর গভীর রাতেও কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অভিযান চালিয়ে একটি এলজি ও দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল রাউজান থানা-পুলিশ। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

