স্বাস্থ্যখাতে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ’ প্রকল্প: ভ্রমণ-গাড়ি ক্রয় হাজার কোটির, পরামর্শকের পকেটে ৩২২ কোটি!

স্বাস্থ্যখাতে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ’ প্রকল্প: ভ্রমণ-গাড়ি ক্রয় হাজার কোটির, পরামর্শকের পকেটে ৩২২ কোটি!
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক


দেশে বর্তমানে কোনো মহামারির প্রাদুর্ভাব না থাকলেও আগাম প্রস্তুতির অজুহাতে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল ঋণনির্ভর প্রকল্প সাজানো হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে মূল লক্ষ্যকে পাশ কাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, পরামর্শক ফি ও গাড়ি কেনাকাটাতেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর—এই তিন সংস্থা মিলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয়ের চিত্র

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে স্বাস্থ্যসেবার চেয়ে কেনাকাটা ও ভ্রমণেই নজর বেশি:

  • ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ: কর্মকর্তাদের ভ্রমণের জন্য ১২০ কোটি টাকা এবং প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনে সোয়া ৫০০ কোটি টাকার বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • পরামর্শক ফি: প্রকল্প সম্পর্কিত পরামর্শকদের (কনসালট্যান্ট) ফি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় সোয়া ৩০০ কোটি টাকা।
  • গাড়ি কেনা ও ভাড়া: সরকারি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনটি সংস্থা মিলে ২০ কোটি টাকার গাড়ি কেনার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া গাড়ি ভাড়া বাবদ ধরা হয়েছে আরও সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
  • ভবন নির্মাণ: বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণেই খরচ ধরা হয়েছে ৩৬৬ কোটি টাকা।

বিশাল অংকের এই বরাদ্দের তুলনায় সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ উপকারে আসবে এমন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে বেশ কম। সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৮২ কোটি টাকা এবং ল্যাব সরঞ্জাম ক্রয়ে ধরা হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা।

উপকারভোগী নিয়ে অস্পষ্টতা ও টিআইবির সমালোচনা

সারাদেশের ১০০টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষ এর থেকে কীভাবে সরাসরি উপকৃত হবে, তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা ডিপিপিতে নেই বলে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বিষয়টিকে কেনাকাটা ও খরচের ‘মহোৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মূল লক্ষ্যকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া অপরাধের শামিল। প্রশিক্ষণ বা কনসালটেন্সির নামে যে অর্থ দেওয়া হয়, তার সিংহভাগই বাস্তবে অপচয় ও আত্মসাৎ হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিদেশ ভ্রমণ বা প্রশিক্ষণের সাথে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য থাকে না।”

তিনি আরও জানান, দাতা সংস্থা হিসেবে বিশ্বব্যাংকেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে এবং তারা দায় এড়াতে পারে না।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের মতে, প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে যাচাই না করে এবং উপকারভোগীর স্পষ্ট রূপরেখা না দিয়ে সাধারণ জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গ্রহণযোগ্য নয়।


সূত্র: একাত্তর টেলিভিশন
Visited 11 times, 1 visit(s) today