দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


যশোরের বাঘারপাড়ায় গভীর রাতে এক কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে পুলিশের তুলকালাম কাণ্ড ও নাটকীয় গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো মামলা বা সুনির্দিষ্ট পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও কেবল ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার’ অভিযোগে বাঘারপাড়া উপজেলা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আজগর আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার ৮ই জুন দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আজগর আলী আওয়ামী লীগের যশোর জেলা কমিটির সাবেক সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি কোনো দলীয় পদে নেই এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও ছিল না।

অধ্যক্ষ আজগর আলীর ভাই আবদুল হান্নান পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র হেনস্থার অভিযোগ এনে জানান, দিবাগত রাত ১টার দিকে একদল পুলিশ আকস্মিকভাবে তাদের রামকান্তপুর গ্রামের বাড়ি ঘেরাও করে। এত রাতে পুলিশ দেখে তারা মঙ্গলবার সকালে আসার অনুরোধ জানালেও পুলিশ তা শোনেনি।

আবদুল হান্নান অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ ঘরের বাইরে রাখা আমাদের কোদাল ও শাবল দিয়ে দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা মই এনে আমাদের নির্মাণাধীন বাড়ির দোতলার ছাদে ওঠার চেষ্টা চালায়। তাতেও ব্যর্থ হয়ে পুলিশ আমাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। বাধ্য হয়ে রাত ৩টার দিকে আমার ভাই ঘরের দরজা খুললে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।”

পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার গ্রেপ্তারের কারণ বা মামলার নথিপত্র দেখতে চাওয়া হলেও পুলিশ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি বলে জানান তিনি।

স্বজনরা জানান, আজগর আলী একসময় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য থাকলেও বর্তমানে তিনি জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কোনো কমিটিতে নেই। তিনি একজন পেশাদার শিক্ষাবিদ হিসেবেই জীবন পার করছিলেন। কোনো মামলা ছাড়াই এভাবে একজন শিক্ষককে মধ্যরাতে ডাকাত দলের মতো কায়দায় গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় শিক্ষকমহলেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ওসির স্বীকারোক্তি: “মামলায় নাম নেই, পুরোনো নাশকতায় গ্রেপ্তার”

এদিকে পুলিশের এই নাটকীয় অভিযান ও বলপ্রয়োগের বিষয়টির কিছুটা স্বীকার করেছেন বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম।

তবে আজগর আলীকে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দাবি করে তিনি বলেন, “গতকাল দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। আজ একটি পুরোনো নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

তবে ওসি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, উক্ত নাশকতার মামলার মূল এজাহারে অধ্যক্ষ আজগর আলীর কোনো নাম ছিল না! গভীর রাতের তাণ্ডব প্রসঙ্গে ওসির দাবি, আজগর আলী দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘরের দরজা খুলতে চাননি, তাই পুলিশ দরজা খোলার (ভাঙার) চেষ্টা করেছে।

Visited 13 times, 1 visit(s) today