পাবনা/দিনাজপুর প্রতিনিধি::
দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সর্বহারা) নামে পরিচিত চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা আবারও বাড়ছে। মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, পোস্টারিং ও গণশত্রু খতমের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে সাময়িক দুর্বলতা দেখা দেয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের স্বাভাবিক তথ্যপ্রবাহ ও সমন্বয় ব্যাহত হয়। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা সর্বহারা গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাবনা-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া অঞ্চলে তাদের ঐতিহ্যগত প্রভাব এলাকায় নতুন করে পোস্টারিং ও হুমকি প্রদানের ঘটনা বেড়েছে।
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) উত্তরাঞ্চলে সর্বহারাদের শেষ বড় ধরনের উত্থান ঘটেছিল। সে সময় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সশস্ত্র তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অভিযান ও নজরদারির কারণে গত এক দেড় দশকে সর্বহারাদের উৎপাত প্রায় অনুপস্থিত ছিল। অনেক নেতা-কর্মী নিহত বা গ্রেপ্তার হন এবং তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের অভাবে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে চাঁদার দাবি পেয়েও ভয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বহারা গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে তারা ডিজিটাল মাধ্যম (মোবাইল ফোন) ব্যবহার করে চাঁদা আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এ অঞ্চলে তাদের পুনরুত্থান যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে স্থানীয় অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরেক দফা ‘লাল আতঙ্ক’ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
