❐ বিশেষ প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ‘সর্বহারা পার্টি’র পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
গত ১০ দিনে একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর থেকে অন্তত ১০ জনকে কল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে অপহরণ ও সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
২১ থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি গ্রামীণফোন নম্বর (০১৬০২-৩৮৭৭৯৩) ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের কল করে চাঁদা চাওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ৩রা মার্চ বিকেলে ওই নম্বর থেকে ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের আইসিটি প্রদর্শক মোস্তাক আহমেদের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে অপরপ্রান্ত থেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে কল কেটে দেওয়া হয়।
এর আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারি কসমেটিকস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ২ লাখ টাকা এবং ২৭শে ফেব্রুয়ারি চাঁদপাড়া এলাকার মুদি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। শফিকুল ইসলাম অপারগতা জানালে তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একইভাবে ২৬শে ফেব্রুয়ারি রেলগেট এলাকার রবিউল ইসলামকেও হুমকি দেওয়া হয়।
২৪শে ফেব্রুয়ারি কাটাবাড়ী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের কাছে ফোন করে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাকে ‘সর্বহারা পার্টি টাকার ওপর চলে’ বলে ভয় দেখানো হয়। একই গ্রামের মাহবুব আলম টনিকেও একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
২১শে ফেব্রুয়ারি কলেজ শিক্ষক ইমরান পারভেজকে ফোন করে অপহরণের হুমকি দিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ৬০ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। তিনি অপারগতা জানালে তাকেও ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া পৌরসভার গড় ইসলামপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন, গৌরীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল মিয়া এবং আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের বাদশা হোসেনসহ আরও কয়েকজন একই ধরনের হুমকির শিকার হয়েছেন। প্রত্যেকের কাছেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতির ভয় দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা দাবি করার পরপরই নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফোনদাতারা কৌশলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এমনভাবে কথা বলছেন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ফুলবাড়ী দোকান ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আনসারী জানান, অনেকেই তার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম বলেন, এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আগে দেখা যায়নি; দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী থানার ওসি আব্দুল লতিফ শাহ জানান, ব্যবহৃত নম্বরটি ভোলার চরফ্যাশন এলাকার এক নারীর নামে নিবন্ধিত হলেও বর্তমানে এর লোকেশন ঢাকার আজিমপুরে শনাক্ত হয়েছে। কয়েকটি লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ থাকলেও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
তিনি এ ধরনের কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত থানায় জানাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
