নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৬ এপ্রিল: নারী নেতৃত্বকে ইসলামে নিষিদ্ধ (হারাম) বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করে আসা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে নজর দিয়েছে। দলটি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং শিগগিরই তাদের নাম ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের সোমবার (৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দলটি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে। গত মার্চ মাসজুড়ে নারী প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া চালিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের নেতৃত্বের বক্তব্য অনুসারে, নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী। দলের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা এর আগে স্পষ্টভাবে বলেছেন, “নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবেন না—এটি মেনেই আমরা রাজনীতি করি।” তিনি আরও বলেছেন, ইসলাম অনুসারে পুরুষ নারীর পরিচালক এবং কোনো ইসলামী সংগঠনে নারী পরিচালক হতে পারবে না।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও নারী নেতৃত্বকে ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত পার্থক্যের’ কারণে অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন। দলের অবস্থান হলো— নারী নেতৃত্ব হারাম এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি কর্মজীবী নারীদের ‘নৈতিক অধঃপতনের’ দিকে ঠেলে দেওয়া হয় বলেও জামায়াতের কিছু নেতা মন্তব্য করে আসছেন।অথচ এই দলটিই এখন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি জামায়াতের সুবিধাবাদী রাজনীতির আরেকটি উদাহরণ। যে দল নিজস্ব সংগঠনে নারীদের শীর্ষ নেতৃত্ব দেয় না, সেই দল সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে নারীদের সংসদে পাঠাতে চাইছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন নারী প্রার্থী যাচাই-বাছাই করছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় সূত্র অনুসারে প্রার্থীদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
জামায়াতের এই অবস্থান নারী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— নারী নেতৃত্বকে হারাম বলে প্রচার করা দল কীভাবে সংরক্ষিত নারী আসনকে ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখছে?
