❐ সংবাদ প্রতিবেদন
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে দেশের সব স্কুল ও কলেজের জন্য ১০টি নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক দিনের মেডিটেশন বা মানসিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।
সম্প্রতি মাউশির জারি করা এক স্মারকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ১০টি নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রস্তুত করা একটি ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মাউশি ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সব মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই প্রশিক্ষণ নিজস্ব ভেন্যুতে বিনা মূল্যে আয়োজন করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ও নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করবেন।
প্রশিক্ষণের পর নিয়মিত অনুশীলন কার্যক্রম চালু রাখার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি মনিটরিং পুল গঠন করতে হবে।
এই মনিটরিং পুল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রম তদারকি করবে। একই সঙ্গে কাউন্সেলিং সেবা এবং অন্যান্য নির্দেশনাও প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে ব্যাচ আকারে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা যেতে পারে।
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অভিভাবকদেরও এ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অঞ্চল, জেলা, থানা বা উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বয়কারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী মনিটরিং কার্যক্রমে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরা (স্কুল পর্যায়ে স্কাউটস ও কলেজ পর্যায়ে রোভার স্কাউটস) স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

