চসিকের দাবি ‘সৌন্দর্যবর্ধন’: বিএনপি নেতাদের ইশারায় চট্টলার আকাশ ঢেকে যাচ্ছে অননুমোদিত বিলবোর্ডে!

চসিকের দাবি ‘সৌন্দর্যবর্ধন’: বিএনপি নেতাদের ইশারায় চট্টলার আকাশ ঢেকে যাচ্ছে অননুমোদিত বিলবোর্ডে!
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা


চট্টগ্রাম নগরে আবারও শুরু হয়েছে বিলবোর্ড স্থাপন। বিভিন্ন মোড়, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন করে বিলবোর্ডের খুঁটি ও অবকাঠামো বসানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল-যুবদলের কয়েকজন নেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা এসব বিলবোর্ড স্থাপনের সঙ্গে জড়িত।

গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে একটি বিলবোর্ড অপসারণ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। তবে এরপর আর কোনো অভিযান দেখা যায়নি।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে চসিক। বিষয়টি নিয়ে সিডিএর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।

চসিক ‘মেয়র’ বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনের দাবি, কোনো বিলবোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণে অভিযান শুরু হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনও জানান, অনুমোদনবিহীন সব অবকাঠামো দ্রুত সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজীর দেউড়ি, স্টেডিয়াম এলাকা, গোলপাহাড় মোড়, প্রবর্তক মোড়, লালখান বাজার, নিউমার্কেট, টাইগারপাস ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল ও সাধারণ বিলবোর্ডের কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। কিছু বিলবোর্ডে ডা. শাহাদাতের ছবি ও বাণী রয়েছে, আবার কিছুতে বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্যোগ চলছে।

লালখান বাজার এলাকায় আগে টানানো ব্যানারের স্থানে এখন বড় আকারের বাণিজ্যিক বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। একইভাবে কাজীর দেউড়ি ও গোলপাহাড় মোড়েও নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এসব বিলবোর্ড স্থাপনে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ৫০টি আলোকিত সাইনবোর্ড বসানোর অনুমোদন দিয়েছে চসিক। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত বছরের অক্টোবরে চুক্তি করা হয়। যদিও এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবু এ চুক্তি নিয়ে সিডিএ আপত্তি জানিয়েছে।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও নগর-পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন বলেন, যত্রতত্র বিলবোর্ড বসানো নগরের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি দৃশ্য দূষণ সৃষ্টি করছে। পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা ছাড়া এভাবে বিলবোর্ড স্থাপন নগরবাসীর জন্য ভোগান্তি ডেকে আনবে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today