শ্রীলঙ্কার একটি আদালত ২০২২ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে এক আইনপ্রণেতাকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বুধবার গামপাহা হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নিহত আইনপ্রণেতা অমরকীর্থি আথুকোরালা (৫৭) রাজধানী কলম্বোর অদূরে নিট্টাম্বুয়া শহরে বিক্ষোভকারীদের হাতে নিহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ফেললে তিনি আত্মরক্ষার্থে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর জনতা তাকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে।
প্রাণ বাঁচাতে আথুকোরালা একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রায় ৫ হাজার মানুষের ভিড় তাকে ঘিরে ফেলে। ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন তাকে এবং তার দেহরক্ষীকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করে।
২০২২ সালের মে মাসে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কাজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে দেশটি তখন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতেও ব্যর্থ হচ্ছিল। ওই অস্থির সময়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই মামলায় অভিযুক্ত আরও ২৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। যদিও গুরুতর অপরাধে দেশটির আদালত নিয়মিতভাবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে থাকে।
২০২২ সালের সরকার পতনের আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী এবং সংসদ সদস্যদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। এ সময় প্রায় ৭৫ জন সংসদ সদস্যের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সহিংস পরিস্থিতির মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং তাঁর ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে গোতাবায়া রাজাপক্ষের উত্তরসূরি রনিল বিক্রমাসিংহে ২০২৩ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে একটি বেইলআউট চুক্তিতে পৌঁছান।
তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিক্রমাসিংহে বামপন্থী নেতা আনুরা কুমারা দিশানায়েকের কাছে পরাজিত হন। ক্ষমতায় এসে দিশানায়েক পূর্ববর্তী সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি বজায় রেখে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেন।
