ইউনুস-খলিল বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া হুকুম: অমান্য করলেই স্যাংশনের মুখে বাংলাদেশ!

ইউনুস-খলিল বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া হুকুম: অমান্য করলেই স্যাংশনের মুখে বাংলাদেশ!
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি
বাংলাদেশের জন্য স্যাংশনের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত এই অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড-এর আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেসামরিক বিমান, গম, এলএনজি, কৃষি পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে। এতে অনুমান করা হয়েছে যে, ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এনার্জি পণ্য এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।কিন্তু চুক্তির গভীরতর শর্তগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

চুক্তির নথি অনুসারে, বাংলাদেশকে কৃষি খাতে সরকারি ভর্তুকি (subsidies) কমানো বা বন্ধ করার দিকে এগোতে হবে, যাতে দেশীয় কৃষকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম ফুয়েল রড বা এনরিচড ইউরেনিয়াম নির্দিষ্ট দেশ (যেমন রাশিয়া) থেকে কেনা সীমিত করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এমন কেনাকাটা নিষিদ্ধ।

চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, “Bangladesh shall not purchase any nuclear reactors, fuel rods, or enriched uranium from a country that jeopardizes essential U.S. interests” (পূর্ব-চুক্তিকৃত ব্যতিক্রম ছাড়া)।আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, ক্রিটিকাল মিনারেলস (critical minerals) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রি কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

 

চুক্তিতে স্যাংশন ও এক্সপোর্ট কন্ট্রোলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা, ইউএস স্যাংশন লঙ্ঘনকারী লেনদেন রোধ এবং নন-মার্কেট দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি না করার শর্তও অন্তর্ভুক্ত।

চুক্তির এনফোর্সমেন্ট ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ যদি এসব শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বের এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭-এর অধীনে আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পূর্বে ২০% থেকে কমিয়ে ১৯% করা হয়েছে) পুনরায় আরোপ করতে পারবে—এমনকি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে।

 

এছাড়া, অ-সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্যাংশনের মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শর্তগুলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কৃষি ভর্তুকি কমানোর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, আর নিউক্লিয়ার ফুয়েল ও ক্রিটিকাল মিনারেলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অনুসরণ না করলে সরাসরি স্যাংশনের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও চুক্তিটি বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সামান্য শুল্ক সুবিধা (১৯% এবং কিছু পণ্যে শূন্য) দিয়েছে, তবু এর পেছনে লুকানো হুমকি ও বাধ্যবাধকতা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, এবং শর্ত অমান্য করলে স্যাংশনের মতো কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রবল।

 

Visited 35 times, 1 visit(s) today