হাদী হত্যার বিচারকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা ইনকিলাব মঞ্চের; ইউনুস প্রশাসনের কঠোর প্রতিরোধ

হাদী হত্যার বিচারকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা ইনকিলাব মঞ্চের; ইউনুস প্রশাসনের কঠোর প্রতিরোধ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান আন্দোলন ক্রমশ তীব্রতর হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) প্রবেশমুখে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও হাদির সমর্থকরা।

এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে “আগে হবে প্রজ্ঞাপন পরে হবে নির্বাচন” স্লোগান ব্যাপকভাবে শোনা যায়, যা আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে বানচালের ইঙ্গিত বহন করে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর লোকসমাগম বাড়লে হাদী হতার বিচারের দাবীতে নির্বাচনকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

গতরাত থেকে পুলিশ সহশীলতা দেখালেও, হাদী হত্যার সাথে নির্বাচন বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে যুক্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে পুলিশ আন্দোলনারীদের প্রতিরোধ করে ও ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আন্দোলনাকরীদের সাথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ও যমুনা এলাকা থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, এতে সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় তারা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়, যেখানেও পুলিশ ইন্টারনেট বন্ধ করে লাঠিপেটা চালায় বলে অভিযোগ।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি। বরং ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ও জলকামানের গাড়িতে উঠে পড়ার পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। গুলি ছোড়া হয়নি এবং আহতদের মধ্যে গুলির আঘাত নেই বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। সরকার হাদি হত্যার বিচারে বদ্ধপরিকর বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কঠোরভাবে আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করছে, লাঠিপেটা করছে শাহবাগে। আন্দোলনকারীরা দিকবিদিক শূন্য হয়ে পালাচ্ছে। এই সময় ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন রনি পুলিশের নির্মম লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হয়। নারী আন্দোলনকারীদের ড ইউনুসকে গালিগালাজ করতেও শোনা যায়।

এদিকে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে রাত ৮টা ৯ মিনিটে একটি পোস্টে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়: “নির্বাচন ১২ তারিখেই হবে। নির্বাচন হতেই হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না।”

এ পোস্টটি হাদি হত্যার বিচারকে ইস্যু করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। আন্দোলনকারীরা হাদী হত্যার বিচারে জাতিংসঙ্ঘের নিযুক্তির “প্রজ্ঞাপন”  আগে চান, যা নির্বাচন স্থগিত বা বিলম্বিত করার দাবির সমতুল্য।

সামাজিক যোগাযোগের ফুটেজ দেখা এটা স্পষ্ট যে ইনকিলাব মঞ্চ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করার দিকে আগাতে থাকার কারনেই ইউনুস প্রসাশন আন্দোলনকারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন।

সরকার ইতিমধ্যে জাতিসংঘে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, বিচারের অগ্রগতি না থাকায় এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

এ ঘটনা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইউনুস প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার আছে কিন্তু সহিংসতা বা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা সহ্য করা হবে না। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Visited 12 times, 1 visit(s) today