-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জামায়াত নেতার অশ্লীল মন্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ
-
শিবির নেতার ডাকসু বিজয়ের পেছনে নারী শিক্ষার্থীদের সমর্থনের ‘প্রতিদান’ এখন প্রশ্নবিদ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা জরোববার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদের লক্ষ্য ছিল বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ শামীম আহসানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও এর নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল মন্তব্য।
শামীম আহসান সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন যে, অতীতে ডাকসু ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ ছিল। এই মন্তব্যকে শিক্ষার্থীরা ঢাবি ও এর নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অপমানজনক ও মানহানিকর বলে অভিহিত করেছেন।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও গৌরবকে কলঙ্কিত করেনি, বরং নারী শিক্ষার্থীদের সম্মানহানি করেছে।
এই ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ, সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের (জামায়াতের ছাত্র সংগঠন) প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন, যার একটি বড় অংশ এসেছিল নারী শিক্ষার্থীদের সমর্থন থেকে।
অনেক নারী শিক্ষার্থী তখন জামায়াত-শিবিরকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ অভিযোগ থেকে মুক্ত করে নতুন করে ‘যুব-ছাত্রবান্ধব’ রাজনৈতিক দল হিসেবে গ্রহণ করেন। জামায়াত-শিবিরের নারীবিদ্বেষ, মৌলবাদী মনোভাবকেও তারা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, ১৯৭১-এর অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত বা পুরনো, এবং শিবির এখন আধুনিক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে।
কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই মন্তব্যের মাধ্যমে সেই ‘বিশ্বাস’ ভেঙে পড়েছে। প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিবির নেতার ডাকসু বিজয়ের পেছনে যে নারী শিক্ষার্থীদের বিপুল সমর্থন ছিল, তার ‘প্রতিদান’ হিসেবে এখন জামায়াত নেতাদের থেকে এমন অপমানজনক বক্তব্য আসছে—যা শুধু অসম্মান নয়, বরং প্রতারণার সমতুল্য।
একজন প্রতিবাদকারী বলেন, “আমরা তাদের ভোট দিয়ে বিশ্বাস করেছিলাম যে তারা পরিবর্তনশীল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের মানসিকতা এখনো পুরনো, প্রতিক্রিয়াশীল।
এটা প্রমাণ করে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও বোঝাপড়াকে নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
ঢাবি প্রশাসনও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে ‘অশ্লীল, অশোভন ও পুরনো মানসিকতার’ প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে।
ডাকসু নেতৃবৃন্দ মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং জামায়াত নেতার কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। যদিও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ সেই চিরায়ত রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে যাচ্ছে, ভোটের মাঠে জামায়াতের নেতাদের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে।
এদিকে, শামীম আহসান পরে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করবেন।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের মতে, এই ‘দুঃখ’ যথেষ্ট নয়—এটি একটি প্যাটার্নের অংশ, যা জামায়াত-শিবিরের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচন করেছে।
এই প্রতিবাদ ঢাবি ক্যাম্পাসে নতুন করে রাজনৈতিক সচেতনতা ও পুনর্মূল্যায়নের সূচনা করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বলছেন—রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার আগে দলগুলোর মূল চরিত্র ও ইতিহাসকে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
