স্বাধীনতাবিরোধীর নামে ঢাকায় সড়ক: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কালিমালেপন ইউনূস সরকারের

স্বাধীনতাবিরোধীর নামে ঢাকায় সড়ক: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কালিমালেপন ইউনূস সরকারের
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে স্বঘোষিত অবস্থান নেওয়া এক কুখ্যাত ব্যক্তির নামে রাজধানী ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ হচ্ছে। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর কলঙ্কের কালিমালেপন বলে আখ্যায়িত করেছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নির্দেশে বছিলা রোডকে আজিজুল হকের নামে নামকরণের প্রক্রিয়া চলছে।

এমন সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে সমালোচকদের অভিমত।

উপদেষ্টার বিশেষ তদ্বিরে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক এজাজের দুর্নীতির অনুসন্ধান করবে দুদক

আজিজুল হক—হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের পিতা। যিনি নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং আফগানফেরত মুজাহিদ জঙ্গিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রসারের কথাও তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেছেন।

১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন বর্তমান ক্ষমতাসীন ইউনূস সরকারের একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্বরত গোলাম মোর্তজার কাছে; যিনি সেসময় সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কর্মরত ছিলেন।

স্বাধীনতাবিরোধী আজিজুল হক বলেন, “৭১-এ আমগো অবস্থান ছিল নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে।”

তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বীকারোক্তিকে তাকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এমন ব্যক্তির নামে সড়কের নামকরণ করছে ডিএনসিসি, যা ব্যথিত করেছে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পরিবারগুলোকে। তাদের মতে, ২০২৪ সালের জঙ্গি হামলার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধূলিস্মাৎ করার যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, এই সড়কের নামকরণ সেই পরিকল্পনারই অংশ।

২০২৪-এর আগস্ট থেকেই সারাদেশে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য, ম্যূরাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ একাত্তরের স্মৃতিবিজড়িত সকল স্থাপনা ধ্বংস করেছে এই গোষ্ঠীটি।

এসব থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা ছুড়ে দিয়ে পাকিস্তানের দিকে যাত্রা শুরু করছে। যে দেশ একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশি দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই দেশের রাজধানীতে এখন সেই বিরোধী শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির নামে সড়কের নামকরণ হচ্ছে—এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে— মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক ও স্বাধীনতার পক্ষের ব্যক্তিদের নামে সড়ক নামকরণের পরিবর্তে কেন এমন একজনের নাম বেছে নেওয়া হলো? এটি কি নতুন প্রশাসনের অধীনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনর্বাসনের অংশ?

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা জনসমক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই নামকরণ দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

Visited 45 times, 1 visit(s) today