জুলাই মামলার দ্বিতীয় রায়ের আগের দিন আইসিটির উপদেষ্টা ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগ!

জুলাই মামলার দ্বিতীয় রায়ের আগের দিন আইসিটির উপদেষ্টা ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগ!
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন- এমন তথ্য নিশ্চিত করলেন আরেক মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

জানা গেছে, পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি টবি ক্যাডম্যান নিজেই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত পদত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

আজ সোমবার টবি ক্যাডম্যান প্রধান উপদেষ্টাকে ই-মেইলের মাধ্যমে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার টবি ক্যাডম্যানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে আইনি সহায়তা দিতে এবং বিদেশে থাকা অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নিয়োগ করেছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন যে- এই দায়িত্ব তার জন্য ‘গর্বের বিষয়’ এবং তিনি ট্রাইব্যুনালকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেবেন।

তার পদত্যাগের খবরটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল (২০শে জানুয়ারি) ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গার সময় সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত দ্বিতীয় রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

 

এই দাঙ্গার মাধ্যমেই শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো হয়েছিল।

পদত্যাগের বিষয়ে টবি ক্যাডম্যান বলেন, “আমার চুক্তির মেয়াদ নভেম্বর মাসে শেষ হয়েছিল এবং আমাকে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি সেটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিইনি।পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।”

আগামীকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে দ্বিতীয় রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, সেটি ২০২৪ সালের চানখাঁরপুলে ছয় ছাত্র হত্যাকাণ্ডের মামলা।

কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় ওই এলাকায় গুলিতে নিহত ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।

এ মামলার মোট আসামি ৮ জন। তাদের চারজন কারাগারে এবং চারজন পলাতক। গ্রেপ্তার চারজন হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মোহাম্মদ সুজন মিয়া, মোহাম্মদ ইমাজ হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

পলাতক আসামিরা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

টবি ক্যাডম্যান ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ, মানবাধিকার এবং প্রত্যর্পণ আইনের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

এর আগে তিনি ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক লবিং ফার্মের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের সময় পরিচালিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্তের কাজ করেছিলেন। তার এই কর্মকাণ্ডে বিএনপি এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে বিপুল অর্থায়ন করা হয়েছিল, যার নথিপত্র ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।

টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগের ফলে ট্রাইব্যুনালের চলমান কার্যক্রম, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলী সংক্রান্ত মামলাগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র: ডেভিড বার্গম্যানের এক্স পোস্ট এবং টবি ক্যাডম্যানের মন্তব্য

Visited 72 times, 1 visit(s) today