নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আওয়ামী যুবলীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি।
সকালে রাজধানীর কয়েকটি প্রধান সড়কে স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় যানবাহনের চাপ কম ছিল। অনেক সড়কেই গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল কম। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নগরবাসীর একটি অংশ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি বলেও জানা গেছে।
‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার রাতে মিরপুর এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বাড্ডায় পার্কিং করে রাখা একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়। একই রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও শাহবাগ থানার পাশে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার পর রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও ফ্লাইওভারে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার দাবি করেছে পুলিশ। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য তুলে ধরেন। এসব ঘটনার পেছনে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা রয়েছে বলেও পুলিশ ধারণা করছে বলে তিনি জানান।
‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির আগে একের পর এক নাশকতার ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নগরীর স্বাভাবিক চলাচলেও। তবে ঢাকার সব এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে—এমনটি নয়। কোথাও কোথাও যানবাহন ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কের অনেক জায়গায় তুলনামূলক ফাঁকা পরিস্থিতি দেখা গেছে।
