ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকট কাটছে না: মব সন্ত্রাস ও ট্যাগের রাজনীতির আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকট কাটছে না: মব সন্ত্রাস ও ট্যাগের রাজনীতির আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর গত দেড় বছর পরও খুলেনি। এতে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য থমকে আছে। মব সন্ত্রাসের ভয় ও ট্যাগের রাজনীতির কারণে আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যাগের রাজনীতিতে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করায় অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর কারখানাগুলো অচল হয়ে পড়েছে। দেশে থাকা অনেক ব্যবসায়ী মামলাসহ নানান হয়রানির মধ্যে রয়েছেন। এর সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং ডলারের অতি মূল্য সংকট আরো বাড়িয়েছে। এসব কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যয় বেড়েছে অনেক গুণ। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনো দুর্দিন কাটেনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা রয়ে গেছে। ব্যবাসায়ীরা স্বাভাবিক ব্যবসা সচল রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন। নতুন করে তারা বিনিয়োগ করছেন না।

ব্যবসায়ীরা জানান, মূল্যস্ফীতির উচ্চচাপ, রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তা, ঋণের চড়া সুদ, বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতি এ সংকটকে করেছে আরও ঘনীভূত।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৬৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের। এর সঙ্গে শাকসবজি, মাছ, হিমায়িত খাদ্য, অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিও কমেছে। দেশের ভিতরেও ব্যবসার গতি কমেছে।

শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সময় ছিল টিকে থাকার লড়াই। এখনো সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাইরেও বেসরকারি খাতে নানা কাঠামোগত সমস্যায় তারা জর্জরিত। উচ্চ সুদহার ও সরকারের কঠোর ঋণনীতির কারণে বিনিয়োগ ব্যয় বেড়েছে।

এক বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। সেই অনুপাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় পণ্যের বিক্রি কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

দেশের ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থার কথা সরকারের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দি ইকোনমি ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, দেশের অর্থনীতি সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা নতুন উদ্যোগ নিতে উৎসাহী হচ্ছেন না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। অস্থিরতা বেড়েছে। এখনো স্থিতিশীল বলা যাবে না।

Visited 11 times, 1 visit(s) today