নিজস্ব প্রতিবেদক
ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই।
গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়।
এই নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অন্তর্জালে সৃষ্টি হয় তুমুল সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে- যে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা, সেই আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলে ক্ষমতার পালা বদল ঘটানোর পরেও কেন কোটা প্রথা বিলুপ্ত হয়নি? প্রশ্ন তুলেছেন খোদ আন্দোলনে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীরাই।
ওসমান হাদির ভাইকে কোন যোগ্যতাবলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্ন করেন সাধারণ নেটিজেনরাও।
ওমর হাদিকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সই করেন যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মো. রফিক।
এতে বলা হয়, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ দেওয়া হলো।
নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হলো।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নানা অশ্লীল ও বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন ওসমান হাদি। অন্তবর্তী সরকারের আমলে আওয়ামীবিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত পক্ষের লোকদের নিয়ে হাদি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির আহ্বায়ক, মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব জানান, এ নিয়োগ স্বপ্রণোদিত হয়ে দেয়নি ইউনূস সরকার। হাদির পরিবারের অনুরোধের ভিত্তিতে সরকার স্পর্শকাতর এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জনান, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে হাদির ভাইকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রথমে হাদীর ভাই ওই প্রস্তাবে রাজি হলেও তার তিনদিন পর সরকারের এক শীর্ষ উপদেষ্টার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর অনুরোধ জানান।
তখন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য মৌখিকভাবে সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে এ নিয়োগের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ই ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ই ডিসেম্বর দুপুরে ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ই ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
