শিশুর খেলার মাঠে মিয়ানমারের গুলি! ভয়ে ঘরবন্দি মানুষ, এলাকা ছাড়ছে অনেকে-যুদ্ধ এখন আমাদের দোরগোড়ায়?

শিশুর খেলার মাঠে মিয়ানমারের গুলি! ভয়ে ঘরবন্দি মানুষ, এলাকা ছাড়ছে অনেকে-যুদ্ধ এখন আমাদের দোরগোড়ায়?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬: কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের ছোড়া গুলিতে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, টেকনাফ এখন যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রের মতো—কিন্তু এ যুদ্ধ বাংলাদেশের নয়, এটি পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ফল।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি (এএ), রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছিল। এই সংঘর্ষের সময় ছোড়া স্ট্রে বুলেট (অজানা গুলি) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ে।

নিহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯/১২ বছর, বিভিন্ন সূত্রে বয়সের পার্থক্য) লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে বাড়ির উঠানে খেলছিল যখন মাথায় গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হয়েছেন আদিল নামে এক যুবক, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে—আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মধ্যে। বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ, মর্টারশেল ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। গুলি এসে পড়ছে চিংড়ি ঘের, চাষের জমি এবং বাড়ির উঠানে। নারী-শিশুরা ভয়ে কাঁদছে, রাত-দিন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা।

বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনী। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তবাসীদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা টেকনাফকে যুদ্ধাবস্থার মতো করে তুলেছে—কিন্তু এ যুদ্ধ বাংলাদেশের নয়। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সরাসরি প্রভাব, যা বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে আরও বড় সংকট তৈরি হবে। সরকারকে কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংঘাতের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

Visited 14 times, 1 visit(s) today