একটি অভিষেক এর চেয়ে বেশি স্মরণীয় আর কী হতে পারে! রবিবার রাতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলে মঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিলেন হাসান ঈসাখিল। তবে তার ৯২ রানের অনবদ্য ইনিংসটি ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠল ক্রিকেটের এক বিরল ইতিহাস।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথমবারের মতো বাবা-ছেলে হিসেবে একই সঙ্গে মাঠ মাতালেন আফগানিস্তানের কিংবদন্তি মোহাম্মদ নবী ও তার ছেলে হাসান ঈসাখিল। শুধু মাঠ মাতানোই নয়, চতুর্থ উইকেটে তাদের গড়া কার্যকর এক জুটিতে ভর করে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
ম্যাচ শুরুর আগেই ছিল আবেগের ঘনঘটা। নিজের বাবা মোহাম্মদ নবীর কাছ থেকেই অভিষেক ক্যাপ গ্রহণ করেন ঈসাখিল। এরপর মাঠে নেমে কিশোর সুলভ চপলতা নয়, বরং দেখালেন দারুণ পরিপক্কতা। ওপেনিংয়ে নেমে ৬০ বলে ৯২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কার মার। অন্যপ্রান্তে সৌম্য সরকার ২৫ বলে ৪৮ রান করে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
তবে দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল যখন নবী ক্রিজে তার ছেলের সঙ্গে যোগ দেন। এই পিতা-পুত্র জুটি মাত্র ৩০ বলে ৫৩ রানের একটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ উপহার দেন। একদিকে ছেলের ব্যাটে ছিল শিল্পের ছোঁয়া, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নবী দলকে এনে দেন দৃঢ়তা। ইনিংসের শেষ দিকে মাত্র ৪ বলের ব্যবধানে দুজনেই আউট হন; ব্যক্তিগত শতক থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থামতে হয় হাসানকে।
১৮৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ঢাকা। ইহসানউল্লাহ (২/৩২) এবং হাসান মাহমুদের (২/২১) বোলিং তোপে মাত্র ১৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় তারা। মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিথুনের ৩৩ ও শামীম হোসেনের ২৯ রান পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে।
ব্যাট হাতে আলো ছড়ানোর পর বল হাতেও দাপট দেখিয়েছেন নবী; ২৩ রান দিয়ে শিকার করেছেন ২ উইকেট। ফিল্ডিংয়ে হাসান ঈসাখিলও ছিলেন উজ্জ্বল, একটি ক্যাচ ও রান-আউট করে অবদান রাখেন দলের জয়ে। ১৮.২ ওভারে ১৪৩ রানেই অলআউট হয় ঢাকা।
সিলেটের গ্যালারি যেন এদিন শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়, বরং ‘নবী পরিবারের’ এক অনন্য সাফল্য দেখল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বড় হয়ে রইল ক্রিকেটের এক পারিবারিক জয়গাথা।
