স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ডলু এলাকায় অবস্থিত আশরাফাবাদ দরবার শরীফ ও রাহমাতুল্লিল আলামীন কমপ্লেক্স। স্বল্প সময়ের মধ্যে এলাকায় কমপ্লেক্সটির আওতায় একটি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, মুসাফিরখানা ও খানকাহ্ গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সুফিবাদী আদর্শে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
আজ ১০ই জানুয়ারি, শনিবার সকাল ৯টায় ফটিকছড়ি উপজেলার জামেউল উলুম জালালিয়া রজভীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব ও হামলার ঘটনাটি ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকেই নানা অজুহাতে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এই মসজিদ–মাদ্রাসা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে ফটিকছড়ি জামায়াতের আমির ও শিবির ক্যাডাররা দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে প্রকাশ্যে “মোকাবেলা করার” হুমকি দেয়।
তাদের অভিযোগ ছিল মাদ্রাসা নির্মাণের সময় অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কাটা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তবে তার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বন অধিদপ্তরের। আইনানুগ প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের জোরপূর্বক দখলচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু সে পথে না গিয়ে জামায়াত-শিবিরে সন্ত্রাসীরা বারবার এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারই অংশ হিসেবে আজ এই মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। তাদের দেওয়া আগুনে পুড়েছে পবিত্র কোরান ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ।
মাদ্রাসার এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আজ সকালের দিকে জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে মাদ্রাসা ও দরবার শরীফ ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। কোরান-হাদিসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে আগুন লাগবে বলে তাদের কাছে আগুন না দেওয়ার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা নিবৃত্ত হয়নি। আগুন দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মাদ্রাসাটি।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
