ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ‘স্বাধীনতার ঘণ্টা বেজে উঠেছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মাদুরো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুক্তরাষ্ট্র ‘আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে’।
শনিবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কারাকাসে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হবেন।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘নিরাপদ ও সুষ্ঠু রূপান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনা করবে এবং দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করবে।
মাচাদো এক বিবৃতিতে বলেন, “ভেনেজুয়েলাবাসী, স্বাধীনতার সময় এসেছে! আজ থেকে নিকোলাস মাদুরো ভেনেজুয়েলাবাসী এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি হবেন।”
তিনি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী বলে দাবি করা এদমুন্দো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সশস্ত্র বাহিনীকে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অনুরোধ করেন।
২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মাচাদো দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের কট্টর সমালোচক। তিনি মাদুরোর পতনকে ‘স্বাধীনতার ঘণ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিয়েছে।
তবে ট্রাম্প মাচাদোকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মাচাদোর দেশের অভ্যন্তরে যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই। পরিবর্তে তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কিছু দেশ এই অভিযানকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করলেও অনেকে মাদুরোর পতনকে স্বাগত জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলায় পরিস্থিতি এখনও অস্থির, সামরিক বাহিনীর অবস্থান নির্ধারণী ভূমিকা পালন করবে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে নোবেল বিজয়ীদের নিয়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। বাংলাদেশে ড. ইউনূসের নোবেলের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর নোবেল জয়ের পর মাদুরোর পতন দেখে অনেকে মনে করছেন— বাংলাদেশ ও ভেনেজুয়েলার পর কোন দেশে এখন থেকে কোনো ব্যক্তি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেই সেই দেশের সরকার আতঙ্কে থাকবে যে, পশ্চিমা শক্তির হস্তক্ষেপে তাদের ক্ষমতা হারাতে হবে কি না। এটি নোবেলের মর্যাদাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অনেক সরকারের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।
