মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ: সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেলে আহত অন্তত ২০

মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ: সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেলে আহত অন্তত ২০
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা বাতিল এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে অন্তত ২০ জন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)-এর ব্যানারে শত শত ব্যবসায়ী পরিবারসহ সার্ক ফোয়ারা মোড়ে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

তাদের প্রধান দাবি ছিল— ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এনইআইআর ব্যবস্থা বাতিল করা এবং গত ১লা জানুয়ারি বিটিআরসি ভবনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫ জন ব্যবসায়ীর নিঃশর্ত মুক্তি।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ প্রথম দফায় জলকামান ও লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী শপিংমল ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েন। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তারা পুনরায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ব্যবসায়ীরা ইটপাটকেল ছুড়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, ফলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এমবিসিবি নেতারা জানান, এনইআইআর চালুর ফলে অবৈধ বা অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১লা জানুয়ারি এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে বিটিআরসি ভবনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ৪৫ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে, যাদের মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দেশজুড়ে মোবাইল দোকান বন্ধ রয়েছে এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Visited 5 times, 1 visit(s) today