৫ আগস্টের পর কারামুক্ত ও পলাতক চরমপন্থিরা ছদ্মবেশে সক্রিয়, থানা লুটের অস্ত্র ঘুরছে হাতে-হাতে

৫ আগস্টের পর কারামুক্ত ও পলাতক চরমপন্থিরা ছদ্মবেশে সক্রিয়, থানা লুটের অস্ত্র ঘুরছে হাতে-হাতে
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক

গত বছরের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় হয়ে ওঠছে চরমপন্থি গোষ্টীগুলো। থানা লুটের অস্ত্রেও তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে। এসব সংগঠন ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনও শক্তি বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। থানা লুটের অস্ত্র গুপ্ত সংগঠন জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের হাতে চলে গেছে বলে মনে করেন তারা।

রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পরপরই তারা বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পাশাপাশি জামিন নিয়ে কেউ কারাগার থেকেও বের হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণকারীরা খোলস পাল্টে এলাকায় একক আধিপত্য নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ ছদ্মবেশে নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। কেউ ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থেকেই কৌশলে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে ভাড়ায় খাটছেন। মূলত আত্মসমর্পণকারীরাই উত্তপ্ত করছেন অপরাধ জগৎ।

১৯৯৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জেলায় আধিপত্য নিয়ে চরমপন্থিদের হাতে নিহত হন চারশর বেশি মানুষ। সরকারের কঠোরতায় ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অন্তত দেড় হাজার চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় চরমপন্থিদের। সরকারি ঘোষণায় সাড়া দিয়ে ২ হাজারের বেশি চরমপন্থি অস্ত্রসমর্পণ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কয়েক দফায় আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের একাংশ (ফাইল ছবি)

অস্ত্রসমর্পণের পর যোগ্যতা অনুসারে ৭শ জনকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে আনসারে চাকরিপ্রাপ্ত চরমপন্থিদের হাতে সরকার কোনো অস্ত্র দেয়নি। সম্প্রতি টাঙ্গাইল, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাহদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশালসহ আরও কয়েকটি জেলায় চরমপন্থিদের আনাগোনা বেড়েছে বলে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, চরমপন্থিদের অন্তত ১২টি গ্রুপ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। পুলিশ একটি তালিকা তৈরি করেছে। তাতে ২ হাজার ৭৫৫ সদস্যের প্রোফাইল প্রস্তুত করে পুলিশ সদর দপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মোট ৫৩৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি এবং বরিশাল বিভাগে ১৮৬টি মামলা হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবেও দুই বিভাগেই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিএনপি-জামায়াত আমলে ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠিত হলে অভিযানে চরমপন্থিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ২০০৫ সালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা মোফাখখার চৌধুরী। ২০০৮ সালে নিহত হন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) নেতা ডা. মিজানুর রহমান টুটুল ও এমএল-জনযুদ্ধের আবদুর রশীদ মালিথা বা দাদা তপন। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। কেউ আত্মসমর্পণ করে আনসারে যোগ দেন। কিছুদিন চাকরির পর ফেরেন পুরনো পেশায়। চাকরি ছেড়ে দেন অনেকেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পলাতক সেই চরমপন্থিরা পুরনো পেশায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এখনও তৎপর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি, পূর্ববাংলা লাল পতাকাসহ বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন। তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত, নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিতে পর্যন্ত লিপ্ত। চরমপন্থা অবলম্বন করেও তাদের পুরোপুরি দমন করা যায়নি। ফলে আওয়ামী লীগ সরকার জলদস্যু, বনদস্যু, মাদক কারবারিদের সুপথে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে তাদেরকে আর্থিক অনুদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দিয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কয়েক দফায় আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের জমা দেওয়া অস্ত্রের একাংশ (ফাইল ছবি)

আশির দশক থেকেই চলনবিলের আশপাশের অঞ্চল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানে চরমপন্থিরা ঘাঁটি গাড়ে। স্বাধীনতার পরপর সিরাজগঞ্জ, পাবনা, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রাজশাহী, রাজবাড়ী, নওগাঁয় মার্ক্স-লেনিন বা মাওবাদী আদর্শের অনুসারী গোপন দলের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ভাঙন, নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া এ সব দলের কর্মকাণ্ড চলে আসে। আদর্শগত বিষয় থেকে সরে গিয়ে অনেক সংগঠনের সদস্যরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল লাল পতাকা), পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ), নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (শৈলেন গ্রুপ), শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন, বাংলাদেশ নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (গাজী-কামরুল), বাংলাদেশ নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মৃণাল), গণমুক্তি ফৌজ, গণবাহিনী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-রশিদ), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (মাদারীপুর গ্রুপ), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (বরিশাল গ্রুপ) ও পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (রাজবাড়ী গ্রুপ) নামে বিভিন্ন সংগঠন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়।

সংগঠনগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও শঙ্কিত। পুলিশ ও র‌্যাবের আশঙ্কা- সংগঠনগুলো দিনে দিনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে চরমপন্থিরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, ডাকাতি, খুন ও চাঁদাবাজির কারণে অস্থিরতা এবং আতঙ্ক বাড়ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারামুক্ত হন চরমপন্থি নেতা রিফুজি মঈন ও আসলাম ওরফে ট্যারা আসলাম। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর এলাকায় ফিরেছেন শীর্ষ চরমপন্থি টাইগার খোকনের সহযোগী শাহীন ওরফে বড় শাহীন। তাদের সহযোগীরাও এলাকায় ফিরে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠনগুলোর সদস্যরা নানা পেশার আড়ালে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা হত্যাকাণ্ডে ভাড়ায় খাটছে। ডাকাতি, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধেও জড়িত তারা। আগের মতো অভিযান না থাকার সুযোগ নিচ্ছে এই চরমপন্থিরা।

সূত্র বলছে, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, খুলনা, বরিশালসহ আরও কয়েকটি জেলায় চরমপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের আনাগোনা রয়েছে। তারা নানা পেশায় যুক্ত। কেউ রিকশা ও রিকশা-ভ্যানচালক, কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ মুদি দোকানি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও চাকরি করছেন কেউ কেউ।

পুলিশ-র‌্যাব ও টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে শিথিলতার সুযোগে চরমপন্থিরা সক্রিয় হয়ে উঠছেন। এলাকার পুলিশ ক্যাম্পগুলোও আগের মতো সচল নেই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কমে গেছে অনেক। টাস্কফোর্সের বৈঠক হয় না প্রায় দুই বছর ধরে। আর কবে বৈঠক হবে তাও কেউ জানেন না।

ঝিনাইদহের ধানখোলা, মহিষাখোলা, এলাঙ্গী, বড়বামুন্দী, সানঘাট আড়পাড়া, জালশুকা, বেড়, ঝোরপাড়া, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বাড়ছে।

চরমপন্থিদের হাতে আলোচিত হত্যাকাণ্ড

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আনার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শিমুল ভূঁইয়া দুটি খুনের মামলায় ২০ বছরের মতো জেল খেটেছেন। এর বাইরেও কয়েকজন চেয়ারম্যানসহ অনেক খুনের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে যশোর সদর, অভয়নগর ও ফুলতলা থানায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরকসহ ৮টি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। খুলনার বিএল কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে শিমুল প্রথমে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর রাজনীতি করতেন। ১৯৯১ সালে যশোরের অভয়নগরে শীর্ষসন্ত্রাসী গণেশকে হত্যা করে আলোচনায় আসেন তিনি। এ মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন।

২০০২ সালে তিনি ইমান আলী নামে আরেক শীর্ষসন্ত্রাসীকে হত্যা করেন। ২০০৩ সালের জুলাই মাসে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টিতে (এমএল জনযুদ্ধ) যোগ দেন। অপরাধ জগতে একাধিক নামে ব্যবহার করেন শিমুল। সৈয়দ আমানুল্লাহ, আমানুল্লাহ সাঈদ, শিহাব, ফজল মোল্লা, ফজলসহ বিভিন্ন ছদ্মনাম রয়েছে তার। বাদল হত্যা মামলার বিচার চলাকালে শিমুল ভূঁইয়ার সেজো ভাই হাতকাটা মুকুল পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন। এতে বিএনপি নেতা সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর হাত রয়েছে বলে মনে করে ভূঁইয়া পরিবার। ২০১৭ সালে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিঠুকে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের ৩০শে অক্টোবর দৌলতপুরে খুন হন নিষিদ্ধ সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম ওরফে হুজি শহীদ। শহীদ ছিলেন আরেক শীর্ষ চরমপন্থি নেতা গাজী কামরুলের অনুসারী। ২০০৭ সালে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের তালমের পারিল-বরইচড়া গ্রামে কৃষক আনিছুর রহমানকে হত্যা করে চরমপন্থিরা। গত বছরের ৩১শে মার্চ চরমপন্থিরা ফুলতলায় এমএম কলেজের ভেতরে আলিফ রোহানকে দিনদুপুরে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের ৩০শে জুন খুলনার মুজগুন্নী এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

চলতি বছরের ৯ই জানুয়ারি কক্সবাজারে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু। এই হত্যাকাণ্ডের পর চরমপন্থিদের নিয়ে পুরনো আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। ২০১০ সালের ২০শে জুলাই সন্ধ্যায় চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে বেড়া উপজেলার প্রত্যন্ত ঢালারচর দাসপাড়া নামক স্থানে আমিনপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন, নায়েক আব্দুল ওয়াহেদ ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম নিহত হন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর কারাগারে থাকা বহু চরমপন্থি নেতা মুক্তি পান। সেসময় থানা-ফাঁড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট হয়, যার অধিকাংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে চরমপন্থিদের পুনরুত্থান এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন সুধীজন। অন্যথায় দুই দশক পর আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অগণতান্ত্রিক ও সহিংস শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

তার মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন সময়ে সহিংস শক্তিকে লালন করা হয়েছে, যা এখন নতুন রূপে আবার দৃশ্যমান হচ্ছে। এসব শক্তির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযান পরিচালনা এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও পুলিশ দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ফলে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

Visited 24 times, 1 visit(s) today