মৃণ্ময় সেন
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করার একটি সমন্বিত ও বহুমুখী প্রচেষ্টা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার মতো রাষ্ট্রব্যর্থতার পথে বাংলাদেশ অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে আগাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ও সিভিল-মিলিটারি প্রশাসনের দুর্বল প্রতিক্রিয়া এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে উস্কানির মাধ্যমে পরিকল্পিত রাজনৈতিক ন্যারেটিভ গড়ে তোলা হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরকে ডানপন্থী গোষ্ঠীর কাজ বলে চিহ্নিত করা হলেও, সমান্তরালভাবে এগুলোকে “বিকল্প রাজনৈতিক প্রকল্পের” ছদ্মবেশে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা চলছে। কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা বা হামলার চেষ্টাকে এই ন্যারেটিভের জন্য জনসমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাদীর ছবি ও তার হত্যায় সৃষ্ট ক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটি তথাকথিত “বিপ্লবী সরকার” গঠনের ধারণা প্রচারের প্রচেষ্টা বাড়ছে। সমন্বিত বক্তৃতা, রাজপথের কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপগুলো একটি কাঠামোগত ও পূর্বপরিকল্পিত অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশি-বিদেশি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে যে, পাড়া-মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা কাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। গত ১৪-১৫ মাসে মিলিশিয়া-ধাঁচের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের দাবি উঠেছে, যাতে বিদেশি প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ও উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সদস্যরা জড়িত। সেনাবাহিনীর কিছু অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ভিতরে ও আশপাশে সংগঠিত অবস্থান গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ভাঙচুর, জনসমাবেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকে জনশক্তি সংগ্রহের কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
সার্বিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশকে “ব্যর্থ রাষ্ট্র” পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি সমন্বিত, বহুমুখী চাপ প্রয়োগের প্রচারণা চলছে। বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র গঠনের প্রচেষ্টা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি, আইনানুগ ও সংযত পদক্ষেপ এবং স্পষ্ট ও সময়োপযোগী নির্বাচনী রোডম্যাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার জরুরি।
অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে। রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।
