সোহেল তাজকে ‘ভারতের ডিপ স্টেট এজেন্ট’ আখ্যা সমর্থকদের: হাসির পাত্র থেকে এবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

সোহেল তাজকে ‘ভারতের ডিপ স্টেট এজেন্ট’ আখ্যা সমর্থকদের: হাসির পাত্র থেকে এবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম সুমন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজকে সরাসরি ‘ভারতের ডিপ স্টেটের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন: “বডি (সোহেল তাজ) ও তার পরিবার আজীবন ইন্ডিয়ার ডিপ স্টেটের এজেন্ট ছিল। সে যতোই আওয়ামী লীগের সমালোচনা করুক এটা তাদের পরিবারের রেওয়াজ মোতাবেক ভারত মাতার স্বার্থ সিদ্ধির অপারেশনের অংশ মাত্র।”

সম্প্রতি, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সোহেল তাজের নাম এসেছে এবং ‘আমার দেশ’ পত্রিকা বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’-এর পরিকল্পনায় সোহেল তাজের সহায়তার অভিযোগ তুলেছিল। তারই প্রেক্ষিতে নিজের সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আবারও ব্রাত্য হয়ে উঠছেন সোহেল তাজ।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত-বিদ্বেষী বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তি সোহেল তাজের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্র হনন এবং হুমকি ছড়াচ্ছেন। অনেকে তাকে ‘র’-এর এজেন্ট, ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘ভারতের দালাল’ বলে গালিগালাজ করছেন। কয়েকটি পোস্টে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোহেল তাজের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ ও হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে ‘দিশেহারা’ অবস্থায় রয়েছেন এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

সেনাবাহিনীর একজন দায়িত্বশীল ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক ও বিতর্কিত পোস্ট সামরিক শৃঙ্খলা এবং সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সামরিক বিধি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

যদিও এ ব্যাপারে সেনা সদরের পক্ষ থেকে এখন অব্দি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সোহেল তাজের অবস্থান বদলের ইতিহাস বেশ পুরনো এবং মজ্জাগত। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের জন্য সমালোচিত। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে হঠাৎ পদত্যাগ করে বিদেশে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের কঠোর সমালোচক হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের বিক্ষোভের সময়ও তিনি তার ও তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান ভুলে উল্টো আওয়ামী-বিরোধিতায় মেতে ওঠেন এবং বিক্ষোভে উস্কানি দেন।

বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতার অন্যতম- তাজউদ্দিন আহমেদ-এর পুত্র সোহেল তাজ সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং নীতির সমালোচনা শুরু করেছেন, যা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। জুলাই বিক্ষোভের সমর্থকদের সুনজরে আসার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও, উল্টো তাদের মব ও বুলিংয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ইতিমধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সোহেল তাজের এই বারবার অবস্থান বদলই তাকে সব পক্ষের সমালোচনার মুখে ফেলেছে। ফলে একদিকে যেমন ভারত-বিদ্বেষী গোষ্ঠী তাকে ‘ভারতের এজেন্ট’ বলছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থকরাও তাকে ‘সুবিধাবাদী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

Visited 36 times, 1 visit(s) today