শাহরিয়ার কবিরের ছাত্রজীবন ও লন্ডনের সকল অপকর্মের গোমর ফাঁস করলেন তারই ঘনিষ্ট বন্ধু

শাহরিয়ার কবিরের ছাত্রজীবন ও লন্ডনের সকল অপকর্মের গোমর ফাঁস করলেন তারই ঘনিষ্ট বন্ধু
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির যমুনা টিভির এক টক-শোতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে “বিশ্বাসঘাতক” বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক নিন্দা-সমালোচনা চলছে। সেই টক-শোতে তার মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় তিনি উল্টো সঞ্চালককে বলেন- “টক-শোতে আমন্ত্রিত অতিথি হচ্ছেন ভগবান, অতিথিকে সম্মান করতে হবে। আমি এসেছি ১৬ কোটি মানুষের হয়ে কথা বলার জন্য। আমাকে আপনি স্বৈরাচারীর মতো থামিয়ে দিতে পারেন না।”

যখন শাহরিয়ার কবিরের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ে চলছে নিন্দা, ঠিক সেসময় লন্ডন থেকে ব্যারিস্টার ইমরান চৌধুরী জনি নামের তারই এক ঘনিষ্ট বন্ধু ফাঁস করে দিলেন এমন সব তথ্য, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

শাহরিয়ার কবিরের সাথে লন্ডনে দীর্ঘদিন একসাথে পড়াশোনা ও বসবাসকারী সেই ব্যারিস্টার ইমরান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “শাহরিয়ার কবির পূলক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াকালীন সময়ে হবিবুর রহমান হল থেকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য মনোনয়ন চায়। ভাষণে-বক্তৃতায়, আড্ডায় বঙ্গবন্ধুর বলতে শাহরিয়ার মুখে ফেনা তুলে ফেলত। যদিও ছাত্রলীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি, সেবার সম্পদক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় কাজল নামে এক কর্মীকে।”

ব্যারিস্টার ইমরান আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষে শাহরিয়ারের ইচ্ছা ছিল ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যাবেন। সেখানে ব্যারিস্টারি পড়ার যাবতীয় খরচ সংকুলানের আর্থিক সঙ্গতি শাহরিয়ারের পরিবারের ছিল না। তখন তার বাবা নওগাঁর এক ধণাঢ্য ব্যবসায়ীর শরণাপন্ন হন ছেলের উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে যাত্রার স্বপ্নপুরণ করতে। সেই ব্যবসায়ীর নাম ছিল রফিক হাটুয়া, তিনি হাট ডাকতেন। সেই রফিক হাটুয়ার কন্যার সাথে শাহরিয়ারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছেলের বিদেশযাত্রার যাবতীয় খরচ অগ্রিম যৌতুক হিসেবে নেন শাহরিয়ার কবিরের বাবা।”

কিন্তু লন্ডনে পড়াশোনা করে নিজের অবস্থান গুছিয়ে নেয়ার পর শাহরিয়ার তার বাবার প্রতিশ্রুতি মতো রফিক হাটুয়ার মেয়েকে আর বিয়ে করতে রাজি হয়নি। বিয়ে করেন লন্ডনপ্রবাসী অন্য এক ধনী বাংলাদেশী পরিবারের মেয়েকে। শাহরিয়ারের এই বেইমানি সইতে না পেরে, রাগে-ক্ষোভে রফিক হাটুয়া পরে তার মেয়েকে লন্ডনের অন্য এক বাংলাদেশির কাছে বিয়ে দেন।

শাহরিয়ার কবির নিজের ফেসবুকে এক ভিডিওতে দাবী করেন, “দ্যা লাইফ অব মুহাম্মদ, মক্কান পিরিয়ড” বইয়ের অডিও শুনে তিনি এতটাই ধর্ম অনুরক্ত হয়ে যান যে, তিনি তার সব ক্রেডিট কার্ড কেটে ফেলেন, ব্যাংকের সকল ঋণ শোধ করে দেউলিয়া হয়ে যান। সেই সময়ে শাহরিয়ার কবিরের আর্থিক অবস্থা এতোটাই নাজুক হয়ে যায় যে বাচ্চার দুধ কেনার জন্য তার কাছে কোনো টাকাই অবশিষ্ট ছিল না। তিনি সকল ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে দ্বীনের পথে চলে আসেন সেই অডিও শুনে।

অথচ শাহরিয়ারের সেই ব্যারিস্টার বন্ধুর দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, লন্ডনে শাহরিয়ারের দুটি বাড়ি আছে, যার একটি মূল্য ২ লাখ পাউন্ড, অন্যটির দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড। এই দুটি বাড়িই তিনি ব্যাংক লোনে কিনেছেন।

এছাড়াও, বাড়ি মেরামতের নামে মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১ লাখ পাউন্ডের মতো ঋণ নেন। পরে ঋণ খেলাপি হওয়া থেকে বাঁচতে শাহরিয়ার ও তার স্ত্রী দুবার করে নাম পরিবর্তন করেন এবং নতুন নামে ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত নেন। এই নাম পরিবর্তন তিনি করিয়েছেন চাইল্ড বেনিফিট বা সন্তানদের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের দেয়া ভাতা নেওয়ার জন্য।

ব্যারিস্টার ইমরানের দেওয়া তথ্য মতো, সম্প্রতি শাহরিয়ার নিউ ক্যাসলে ৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড দিয়ে আরেকটি নতুন বাড়ি কিনেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, নতুন বাড়ি পুরো অর্থ বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ইংল্যান্ডে পাচার করেন শাহরিয়ার কবির। সুত্র অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে শাহরিয়ারের কোনো দৃশ্যমান আয় নেই। সকল ধরনের সরকারি ভাতা নিয়ে তার পরিবার লন্ডনে বসবাস করছে।

ব্যারিস্টার ইমরান আরও জানান, বাংলাদেশে শাহরিয়ার কবির আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের অতি ঘনিষ্ট ছিলেন এবং আওয়ামীপন্থী আইনজীবী জনৈক সিদ্দিকি সাহেবের চেম্বারেই কাজ করতেন। এমনকি তিনি আওয়ামী লীগের হাই প্রোফাইল নেতৃবৃন্দের মামলা পরিচালনা করতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ব্যারিস্টার ইমরান শাহরিয়ার কবিরের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, “তুমি যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদলতে, চেম্বারে, বিভিন্ন মামলা পরিচালনায় যেসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছো, তার কোনটিই জামায়াত কর্মী হিসেবে নাওনি, সব নিয়েছো আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক সেজে। তুমি আজ কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে বদমায়েশ বা বিশ্বাসঘাতক বলো? বিশ্বাসঘাতক বা মোনাফেক তো তুমি।”

তিনি আরও বলেন, “লন্ডনে তোমার বাটপারি আর জোচ্চুরির ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। তুমি ব্যাংকের টাকা মেরেছো, নামে-বেনামে বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র বানিয়েছো, ক্রেডিটে বাড়ি কনছো, এমনকি তুমি বাংলাদেশ থেকে আগত ছাত্রদের কাছে ২০ পাউন্ডের মোবাইল মিথ্যা বলে ৫০ পাউন্ডে বিক্রি করছো, এমন অমানবিক রেকর্ডও আছে তোমার।”

“এখন তোমার মতো মোনাফেক আর বাটপার আসছে ধর্মের বাণী সঙ্গী করে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নামে উল্টাপাল্টা কথা বলতে”, বলেন তিনি।

Visited 335 times, 1 visit(s) today