নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২৫: যে ছাত্ররা গত বছর রাজপথে জীবন বাজি রেখে দেশ, সরকার ও সিস্টেম সংস্কার করতে চেয়েছিল, যাদের রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সেই ছাত্রদেরই আজ শাহবাগে নির্মমভাবে পেটালো পুলিশ।
৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানো এবং পিএসসি-তে সংস্কারের ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে লাঠি, লাথি আর ধাক্কাধাক্কির যে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ, তা দেখে মনে হয়, ক্ষমতার আসনে বসার পরই পাল্টে গেছে রং। যে সরকারকে ছাত্ররা নিজেদের হাতে গড়া বলে গর্ব করত, সেই সরকারই আজ তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছে দাঙ্গা পুলিশের পৈশাচিক রূপ।
আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড়ে যখন হাজারো বিসিএস পরীক্ষার্থী ‘পরীক্ষার তারিখ পেছাও, পিএসসি সংস্কার করো’ স্লোগানে মুখরিত করছিল রাজপথ, তখনই হঠাৎ পুলিশি তাণ্ডব শুরু হয়। মুহূর্তে ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে লাঠিচার্জ, ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ। অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, কারো মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে।
এর মধ্যেই কয়েকজন পরীক্ষার্থী চরম হতাশায় গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের সামনেই তারা চিৎকার করে বলছিলেন,
“তোমরা যদি আমাদের কথা না শোনো, তাহলে বেঁচে থেকে আর লাভ কী!”
রাগে, ক্ষোভে, হতাশা আর অনিশ্চিয়তায় বিসিএস পরীক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ছবি পুড়িয়ে দেন।
“তোমরাই তো গত বছর আমাদের সাথে রাজপথে ছিলে, আজ ক্ষমতায় বসে আমাদের পিঠে লাঠি মারছ কেন?” এই প্রশ্নই বারবার উঠে এসেছে ছাত্রদের মুখে।
যে সরকারের জন্ম হয়েছিল ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে, সেই সরকারই আজ ছাত্রদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে তাদের উপর পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে, এর চেয়ে বড় স্বৈরাচারী মনোভাব আর কী হতে পারে? যারা গত বছর ‘নিপীড়ন বন্ধ করো’ স্লোগান দিয়েছিল, তারাই আজ নিজেরাই নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
ছাত্রদের একটাই প্রশ্ন: আমরা কি ভুল করেছিলাম যে তোমাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম? আজ শাহবাগের রক্তাক্ত সড়ক তারই উত্তর দিচ্ছে।
