নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত সমাবেশে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ‘জুলাই-আগস্ট দাঙ্গা’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রবিবার সকালে এ সমাবেশ শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়), বার্ন ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায় বা প্রচণ্ড যানজটে অচল হয়ে পড়ে।
সকাল ১০ টা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের কয়েক শত নেতাকর্মী। মাইকের শব্দ, স্লোগান ও বিক্ষোভে এলাকার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।
একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সকাল থেকে দুইবার চেষ্টা করেছি ঢাকা মেডিকেলে ঢুকতে, কিন্তু শাহবাগ মোড়ে আসতেই জ্যামে আটকে গেছি। এক রোগীর অবস্থাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ কিছুই করতে পারছে না।”
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা বরিশাল থেকে আগত এক রোগীর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামী ক্যান্সার পেশেন্ট। অপারেশনের তারিখ ছিল আজ। কিন্তু সকাল ১১টা থেকে শাহবাগেই আমরা আটকে। এখন বলছে অপারেশন পিছিয়ে যাবে। যারা রাস্তা আটকে রেখেছে, তারা কি মানুষ?”
ঢাকা মেডিকেলের এক সিনিয়র চিকিৎসক জানান, “জরুরি রোগীদের দ্রুত ট্রান্সফার করতে না পারলে তাদের প্রাণনাশের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি যদি হাসপাতালে সংলগ্ন এলাকায় হয়, তাহলে রোগীদের জীবন নিয়ে হেলাফেলা করা হয়। আমরা এই ধরনের কর্মসূচির তীব্র নিন্দা জানাই।”
আরেকজন বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, “রাস্তায় জ্যামের কারণে অন্তত পাঁচজন দগ্ধ রোগীর অ্যাম্বুলেন্স দেরিতে এসেছে। তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে সেটা মারাত্মক জটিলতা তৈরি করেছে।”
উল্লেখ্য, শাহবাগ মোড় ঘিরে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি এসব হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়।
পথচারীদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আন্দোলন করতে হলে প্রেসক্লাব কিংবা সুপ্রিম কোর্টের সামনে যাক। শাহবাগে করে শুধু অসুস্থ মানুষদের কষ্ট দেয়া হচ্ছে। এইটা রাজনীতি না, অমানবিকতা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে রোগীরা হাঁটতে পারছে না, রাস্তায় মারামারির ভয়। সারা বছর রাজনৈতিক কর্মসূচির ভোগান্তি তো পোহাই, আজকেরটা সীমা ছাড়িয়েছে।”
ছাত্রদলের এই কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা দেখা গেছে। নেটিজেনরা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনগণের ভোগান্তি তৈরি করা অগ্রহণযোগ্য।
সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বলছেন, হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা উচিত, যেন সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কেউ রাজনীতি করতে না পারে।
