ঢাবি প্রতিনিধি
আজ সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটে দেশে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ‘স্বাধীনতা টাওয়ার’ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এবং ভবনের ফ্ল্যাটে নিজেদের সিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের ধাক্কায় মুহসীন হলসহ বেশ কয়েকটি হলের পলেস্তারা খসে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
হলের ভিপি সাদিক হোসেন সিকদার দাবি করেন, ২০১৪ সাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এই হলকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ ঘোষণা করেছে। দশ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো সংস্কার বা বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করেনি।
তিনি বলেন, “আমরা বারবার ভূমিকম্পের শিকার হয়েছি। আগের ঘটনাগুলোতে আমাদের অনেক ছাত্রের হাত-পা ভেঙেছে, গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রশাসন নিজেরা নিরাপদ ভবনে থেকে আমাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে রেখেছে।”
তবে এই দাবি-দাওয়া উত্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মিছিলকারীরা ভবনের গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন এবং হুমকি দিয়ে ফ্ল্যাট খালি করতে বলেছেন।
অনেকে বলছেন, যে কারণেই হোক, অন্যের আবাসস্থল জোর করে দখলের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ছাত্ররাজনীতির নামে আইন ভাঙার আরেকটি উদাহরণ।
দশ বছর ধরে সংস্কার না করা এবং ছাত্রদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে রাখা প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। কিন্তু সেই গাফিলতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মানসিকতা যে ছাত্রসমাজের একাংশের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে, তাও আজকের ঘটনা প্রমাণ করল।
এই ঘটনা কেবল সম্পত্তি দখলের ঘটনা নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ছাত্রসমাজের গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের প্রকাশ। সকালের ভূমিকম্প যখন লোকজনের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে, তখনই “যা ইচ্ছা তাই করা যায়”—এই জোর জবরদস্তির মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
আজ ভূমিকম্পের অজুহাত, কাল অন্য কোনো সংকট—কিন্তু লক্ষ্য একটাই: নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে জোর যার মুল্লুক তার- নীতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। যারা নিজেদের “জাতির ভবিষ্যৎ” বলে দাবি করেন, তারাই আজ সংকটের মধ্যে অন্যের অধিকার লুণ্ঠন করতে দ্বিধা করেননি।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়া এই সকল ছাত্রদের মনোভাব জাতির জন্য কি ভবিষ্যৎ গড়বে, এই নিয়ে শংকিত সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষেরা? যখন এরা আগামী দিনে দেশের নেতৃত্বে আসবেন, তখন কি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন, নাকি এই জবরদখলের সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় নীতি হয়ে উঠবে? এই শঙ্কা আজ জাতির হৃদয়ে বিঁধছে।
