বিশেষ প্রতিবেদক
খুলনা মহানগরীর পাওয়ার হাউজ মোড় ও সাচিবুনিয়া বাইপাস সড়কে বড় আকারের মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ. যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। গত রাতে উভয়স্থানে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গভীর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দিবাগত রাত ১টার পর নগরীর টাইগার গার্ডেন সংলগ্ন কার্যালয়ে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, লবণচরার সাচিবুনিয়া টেক্সটাইল মিলের পাশে বাইপাস সড়কে রাত ৮ টার দিকে শতাধিক নেতাকর্মীর মশাল মিছিল বের করে। খুলনা জেলা যুবলীগের উদ্যোগে এ মিছিল বের হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে নেতাকর্মীরা সরে পড়েন। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
একইসময় মহানগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে ছাত্রলীগের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। খবর পেয়ে সদর ও সোনাডাঙ্গা মডেল থানার পুলিশ সেখানে ছুটে যায়।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, “আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কর্মীরা রাতে ফেরীঘাটের মোড় থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। ‘স্থানীয় জনতার সহায়তায়’ খুলনা ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে।”
উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) তাজুল ইসলাম বলেন, “১৩ নভেম্বর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ইউনিফর্ম পারা পুলিশ, সিটিএসবি এবং সঙ্গে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ। মোবাইল টিম এবং চেকপোষ্ট বাড়ানো হয়েছে।”
অপরদিকে, খুলনা জেলা ও মহানগর এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে শহরের টাইগার গার্ডেন সংলগ্ন এনসিপি কার্যালয়ে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এনসিপির দাবি, রাত আনুমানিক ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আসবাব নষ্ট করে। ঘটনার পর নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এ বিষয়ে এনসিপির খুলনা জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আজই আমরা মামলা দায়ের করব।
তবে এমন ভাঙচুরের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীরা বলেন, কার্যালয়ে হামলার কোনো খবর আমাদের কানে আসেনি। এনসিপির লোকজন নিজেরাই এটা ঘটিয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, রাজনৈতিক কোনো দলের লোকজন যদি ভাঙচুর করত, তবে আরও ক্ষয়ক্ষতি হতো। পুরনো দুয়েকটি আসবাব আর একটা জানালার কাচ ভাঙা সন্দেহজনক।

