নিজস্ব প্রতিবেদক
হাওর ও খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল জীবনমান গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত ‘জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরএলইপি)’ অনুমোদন দেয়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
প্রকল্পটিতে হাওর অঞ্চলের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব থাকায় সেটি পুনর্গঠন করে পরে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোতে এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বন্ধ রাখায় সরকার ফিরিয়ে দিয়েছে বলে একটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রকল্পটির কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু সহনশীলতার নামে প্রকল্পে অবকাঠামো নির্মাণের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে টেকসই জীবিকা উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত।’ সরকার এসব প্রকল্পে এনজিও অংশিদারিত্ব চেয়েছিল বলে জানা গেছে। যাতে তাদেরকে কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়। কিন্তু সেটা না হওয়ায় মূলত প্রকল্পটি পাশ করা হয়নি।
এই আপত্তির প্রেক্ষিতে একনেক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হাওর অঞ্চলের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী অবকাঠামোগত কার্যক্রম কমিয়ে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে পুনরায় উপস্থাপন করতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নেও দেখা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয় হবে সড়ক, ঘাট, বাজার ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে।
প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,২৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে:
সরকারের অর্থায়ন: ৩০৫ কোটি টাকা, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের ঋণ: ৮৫৪ কোটি টাকা, ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা ডানিডার অনুদান: ১১০ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ আটটি হাওর জেলায় বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল:
৩৩৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৫৮টি বাজার পুনর্বাসন, ৩৪টি ঘাট নির্মাণ, ৭২টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪৮০টি শৌচাগার স্থাপন, ৭২০টি নলকূপ স্থাপন, ৪০ হাজার যুবকের প্রশিক্ষণ ও ২০ হাজার যুবককে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
এখন প্রকল্পটি নতুনভাবে মূল্যায়ন ও সংশোধন শেষে আবার একনেকে উপস্থাপন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে এনজিও সম্পৃক্ততা বাড়ানো হয়।
