সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা পলাশের বিরুদ্ধে ‘আমার দেশ’-এর সংবাদ মিথ্যাচার: আইনজীবীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা পলাশের বিরুদ্ধে ‘আমার দেশ’-এর সংবাদ মিথ্যাচার: আইনজীবীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত “ড. ইউনূসকে হয়রানির ‘কারিগর’ এনএসআই কর্মকর্তা, কে এই পলাশ” শিরোনামের সংবাদকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করেছেন জনাব আমিনুল হক পলাশের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার।

তিনি এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তার এই বক্তব্যকে মক্কেলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

ব্যারিস্টার মজুমদার বলেন, তার মক্কেল দৃঢ়ভাবে মনে করেন আমার দেশ একটি মৌলবাদী ধারার সংবাদমাধ্যম, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চলেছে। এই পত্রিকাটি প্রকৃত সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে। তাই তার মক্কেল এই পত্রিকায় চিঠি লিখে কোনো প্রতিকার পাবেন বলে মনে করেন না।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, সংবাদে যে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে—যেমন বেআইনি সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে লন্ডন যাত্রা, মামলার কারিগর হওয়া কিংবা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা—এসবই মিথ্যা ও কল্পিত। আইনজীবী স্পষ্ট করে জানান, জনাব পলাশের কোনো সবুজ পাসপোর্ট নেই। তিনি কূটনৈতিক দায়িত্বে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন বৈধ কূটনৈতিক পাসপোর্টেই এবং সংশ্লিষ্ট হাইকমিশন থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়েই লন্ডন গেছেন। পত্রিকায় যেভাবে ভিসা বা অনুমতি ছাড়া পালানোর কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ব্যারিস্টার মজুমদার আরও বলেন, তার মক্কেল রাষ্ট্রের একজন শপথরত কর্মকর্তা ছিলেন এবং এখনো আছেন। ফলে কোনো অসাংবিধানিক নির্দেশ মানতে তার বাধ্যবাধকতা নেই। ড. ইউনূস বর্তমানে যে অবস্থায় ক্ষমতায় আছেন, তা তিনি অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলেই মনে করেন। তাই সেই শাসন ব্যবস্থার অধীনে কোনো নির্দেশ মানার প্রশ্নই আসে না।

জনাব পলাশের বিরুদ্ধে মামলা রচনা, সাক্ষী তৈরি কিংবা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের ব্যবহার করার যে অভিযোগ সংবাদে আনা হয়েছে, সে বিষয়েও আইনজীবীর বক্তব্য, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার পলাশের ছিল না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই হয়েছিল। ফলে এসব ঘটনার দায়ভার পলাশের কাঁধে চাপানো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র” (RAW)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশ নিয়েছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবে মতবিনিময় করেছিলেন। কেবল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নাম টেনে এনে তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা আমার দেশ-এর মৌলবাদী চিন্তার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জনাব পলাশ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে বহু গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য তিনি জনসমক্ষে আনতে পারেন না, কারণ তা রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে কুতসা, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার অব্যাহত থাকলে তিনি বাধ্য হয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।

প্রতিবাদের শেষাংশে আইনজীবী নিঝুম মজুমদার বলেন, “আমার দেশ” এবং ইউনূস-নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য গণমাধ্যম যদি এভাবে মিথ্যাচার চালিয়ে যায়, তবে তার মক্কেলকে “আরো কঠোর সিদ্ধান্ত” নিতে হবে। যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ ও কুতসার বিরুদ্ধে আইনিভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

আইনজীবী জানান, যে কোনো প্রশ্ন বা অনুসন্ধানের জন্য এখানে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

Visited 111 times, 1 visit(s) today