❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততা বা সমর্থনের কারণে দেশে মব সন্ত্রাস চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব সন্ত্রাস এবং শ্রমিক হত্যার জন্য সরকারকেই দায়ী করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “অনেক শ্রমজীবী মানুষের রক্তের বদলে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে শ্রমিককে।”
এভারগ্রিন কারখানার শ্রমিক মো. হাবিব ইসলামের হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেছে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী এই শ্রমিকের মৃত্যু জনগণের ন্যূনতম মানবাধিকারকে বিপন্ন করেছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি অভিযোগ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়হীনভাবে এসব ঘটনা ঘটতে দিয়েছে এবং জনগণের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “আগের সরকারের মতই এই সরকার শ্রমিকবিরোধী, নারীবিরোধী, জাতিসত্তাবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা পালন করছে।”
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরা হয়। রংপুরের তারাগঞ্জে ভ্যানচালক রুপলাল দাস ও প্রদীপ দাসকে পিটিয়ে হত্যা, গঙ্গাছড়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, এবং লালমনিরহাটে নাপিত পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীলের উপর মব সন্ত্রাসের ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক আলোচনা সভায় মব সন্ত্রাসের পর পুলিশ সন্ত্রাসীদের বদলে মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারকে মব সন্ত্রাস ও জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজ গড়তে হলে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
গত বছরের ২২শে অগাস্ট ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার শতাধিক ব্যক্তি রয়েছেন।
