বেরোবি কিক স্কলারশিপে যৌন কেলেঙ্কারি: ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলনের মুখোশ উন্মোচন, সাবেক সমন্বয়ক রহমত আলী বহিষ্কার

বেরোবি কিক স্কলারশিপে যৌন কেলেঙ্কারি: ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলনের মুখোশ উন্মোচন, সাবেক সমন্বয়ক রহমত আলী বহিষ্কার
শেয়ার করুন

রংপুর প্রতিনিধি। বেরোবি, ২৩শে আগস্ট, ২০২৫, শনিবার।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কিক স্কলারশিপ প্রোগ্রামে চুক্তিভিত্তিক ‘কোর্স ইন্সট্রাক্টর’ পদে থেকে নারী শিক্ষার্থীদের কাছে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রহমত আলী। শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার নামে সংগঠন চালিয়ে যাওয়া এই তথাকথিত ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলনের নৈতিক পতন নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) জার্মানভিত্তিক প্রকল্প সংস্থাটি জরুরি সভায় রহমতকে বরখাস্ত করে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী। তিনি বলেন, “নারীঘটিত অভিযোগ ওঠার পর সংস্থাটি সঙ্গে সঙ্গে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। তার নিয়োগ ও বেতন সংস্থার, তাই তারা নতুন ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ দেবে।”

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রহমত আলীর একাধিক ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হয়। সেখানে তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে লেখেন, “তোমার প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ, আই নিড ইউ, নরমালি আমার প্রেমিকাকেও আমি না ছুঁতে প্রতিজ্ঞ, জানি না তুমি কীভাবে নাও, আমি সত্যিই তোমাকে কামনা করি, আমার সঙ্গে থাকবে তো?”—এমন বার্তা প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ পাওয়া রহমত আলী ক্লাসে ছিলেন অনিয়মিত, দায়িত্বহীন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সময় কাটাতেন। শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, “তিনি কখনো নিয়মিত ক্লাস নিতেন না। আসলেও রাজনীতির গল্প করতেন।”

শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের হাতে ‘বৈষম্য দূর করার’ দায়িত্ব থাকার কথা, তারাই যখন যৌন হয়রানিতে জড়িয়ে পড়ে, তখন এর চেয়ে বড় বৈষম্য আর কী হতে পারে? তাদের মতে, রহমত আলীর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের আন্দোলন আসলে কীভাবে ব্যক্তিস্বার্থ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে রহমত আলী ফেসবুকে লিখেছেন, “এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রমাণ সাজানো হয়েছে।” তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, এ ধরনের অশালীন বার্তা ও আচরণের দায় ষড়যন্ত্রের অজুহাতে এড়ানো যায় না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, রহমত আলীর বহিষ্কার ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলনের মুখোশ খুলে দিয়েছে—যেখানে স্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে থাকে স্বার্থবাদিতা, অনৈতিকতা ও শিক্ষার্থীদের শোষণ।

Visited 15 times, 1 visit(s) today