পরিবেশ উপদেষ্টার ব্যর্থতা ও ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প: হাতি রক্ষার নামে আবারও জনগণের অর্থের অপচয়?

পরিবেশ উপদেষ্টার ব্যর্থতা ও ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প: হাতি রক্ষার নামে আবারও জনগণের অর্থের অপচয়?
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৫, শনিবার।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি স্বগোক্তি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে: “আমি যেদিকে হাত দেই, সেদিকেই সমস্যা। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২টি হাতি মারা গেছে।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভ এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিগত এক বছরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে তাঁর নেতৃত্বে ব্যাপক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে, যদিও একজন নামকরা পরিবেশকর্মী হিসেবে তাঁর কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সমালোচকরা বলছেন, রিজওয়ানার বাগড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তার আড়ালে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই, এবং তাঁর নতুন ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প কেবল জনগণের অর্থের অপচয়ের আরেকটি উদাহরণ হতে চলেছে।

গত এক বছরে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ, পাহাড় ও নদী রক্ষা, এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের অভাব এবং পাথর উত্তোলনের কারণে নদীগুলোর ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, তাঁর দায়িত্বকালে ১২টি হাতির মৃত্যু পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর ব্যর্থতার একটি প্রকট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন ফিউচার’ এর প্রধান মো. রহমান বলেন, “একজন নামকরা পরিবেশকর্মীর কাছে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ আশা করেছিলাম, কিন্তু তিনি কেবল বাগাড়ম্বর আর প্রকল্পের নামে অর্থের অপচয় করছেন।” উনার সবচেয়ে সফল প্রকল্প হচ্ছে, সেন্ট মার্টিন এ যাতায়াত বন্ধ করে সেন্টমার্টিনের জীব বৈচিত্র রক্ষা করা!

৪০ কোটি টাকার প্রকল্প:

হাতি রক্ষার নামে অপচয়? রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি হাতি রক্ষার জন্য ৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস করিয়েছেন, যেখানে বনাঞ্চলে রোবোটিক ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো হাতি-মানুষ সংঘাত কমানো এবং হাতিদের অবৈধ শিকার রোধ করা। তবে, এই প্রকল্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে। নেটিজেনরা মনে করছেন, ১২টি হাতির মৃত্যুর আক্ষেপকে পুঁজি করে রিজওয়ানা জনমনোযোগ আকর্ষণ করেছেন এবং এই সুযোগে বড় অঙ্কের প্রকল্প পাস করিয়েছেন। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “৪০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস করানোর জন্যই কি এই ‘আক্ষেপের নাটক’? পলিথিন বন্ধ, কেয়ারির পাথর ও নদী রক্ষায় যিনি ব্যর্থ, তিনি হাতি বাঁচাবেন কীভাবে?”

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বাংলাদেশের হাতি-অধ্যুষিত এলাকা যেমন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, এবং শেরপুরের বনাঞ্চলে ১০০টি রোবোটিক ক্যামেরা এবং ৫০টি ড্রোন স্থাপন করা হবে। এছাড়া, হাতিদের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য জিপিএস-ভিত্তিক ডিভাইস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর, এবং এর ৬০% ব্যয় বহন করবে একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা। তবে, বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, বিশেষ করে যখন পূর্ববর্তী পরিবেশ প্রকল্পগুলোতে রিজওয়ানার নেতৃত্বে সাফল্যের অভাব স্পষ্ট।

নেটিজেন ও পরিবেশকর্মীরা রিজওয়ানার নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্য তাঁর অপেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতাকে দায়ী করছেন। পলিথিন নিষিদ্ধকরণে ব্যর্থতা, পাথর উত্তোলনের ফলে নদী ধ্বংস, এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অগ্রগতির অভাব তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ। একজন পরিবেশবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“অতীতে রাজনীতিবিদরা, যাদের পরিবেশ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান ছিল না, তারাও রিজওয়ানার চেয়ে বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাঁর কথাবার্তা বড়, কিন্তু কাজের ফলাফল শূন্য।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেছেন, এই ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প কেবল অর্থ আত্মসাৎ এবং জনমনোযোগ ধরে রাখার কৌশল। একটি টুইটে বলা হয়, “হাতির মৃত্যু নিয়ে আক্ষেপ দেখিয়ে প্রকল্প পাস করানো হয়েছে, কিন্তু ফলাফল হবে পলিথিন ব্যর্থতার মতোই। শেষ পর্যন্ত জনগণের টাকাই অপচয় হবে।”

রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় স্পষ্ট। হাতি রক্ষার জন্য রোবোটিক ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার তাত্ত্বিকভাবে সম্ভাবনাময় হলেও, তাঁর পূর্ববর্তী ব্যর্থতা এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ফলাফল পেতে হলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা, কঠোর নীতি বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছ অর্থ ব্যবস্থাপনা জরুরি। অন্যথায়, ৪০ কোটি টাকার এই প্রকল্প জনগণের অর্থের অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবেশ উপদেষ্টার কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল পরিবেশ রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ, কিন্তু তাঁর বাগড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এবং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করেছে। সরকারের উচিত এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের ওপর কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যাতে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃত অগ্রগতি অর্জিত হয়।

Visited 13 times, 1 visit(s) today