নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাংসদের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না জানান, এ অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তিনি বলেন, এতদিন আমরা জেনেছি, এনসিপির অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, তদ্বির বাণিজ্য, নিয়োগ ও দখল বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তার প্রমাণও সামনে এসেছে। এমনকি সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব বক্তব্যে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন এই সাংবাদিক।
পান্না জানান, ভাইরাল ভিডিওটি তৈরি করেছেন গুলশানের কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলায় জড়িত বলে অভিযুক্ত জানে আলম অপু।
ধারণা করা হচ্ছে, অপু আটক হওয়ার আগে ৩৭ মিনিটের এই স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওটি নিরাপত্তার জন্য কারো মাধ্যমে প্রকাশ করে যান। ভিডিওতে অপু জানান, তিনি নিজে চাঁদার টাকার ব্যাগ নিতে যান এবং সেখানে যাওয়ার আগে এক উপদেষ্টার সঙ্গে তার সরাসরি কথা হয়।
অপু আরও জানান, চাঁদাবাজির আগের রাতে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের নিচে বাইক ও হেলমেট পরে দেখা করতে আসেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
অপুর প্রশ্ন, একজন উপদেষ্টা কেন রাত ৪টায় গুলশানের রাস্তায় আসবেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলবেন?
অপুর ভাষ্য, অভিযানে যাওয়ার আগেই গুলশান জোনের ডিসি ও এসিকে জানিয়েই আওয়ামী লীগের ওই নারী সংসদ সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু কেন এই অভিযান এবং আসিফ ভূঁইয়ার উপস্থিতি গণমাধ্যমে আসেনি, সে প্রশ্ন তোলেন অপু।
ভিডিওটিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় শুধু আসিফ ভূঁইয়া নন, আরো ভাইয়েরা জড়িত এবং এটি ওপেন সিক্রেট। গত বছর যে ব্যক্তি স্কুটিতে চলতেন, তিনি এখন দামি মোটরসাইকেল চালান, ফাইভ স্টার হোটেল ছাড়া বসেন না। ফকিন্নির পোলারা কীভাবে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেল- এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভিডিওতে অপু তার বক্তব্যে জানান, তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাই এই ভিডিওটি আগেই প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন। যেন পরবর্তীতে অন্য কোনো স্ক্রিপ্ট তৈরি করে তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় না করা হয়।
এই চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক ও রিমান্ডে থাকা আরেক সমন্বয়ক রিয়াদ প্রসঙ্গে অপু প্রশ্ন তোলেন, একজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার মতো কী অপরাধ হয়েছে? শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগে এমন দীর্ঘ রিমান্ড কি যৌক্তিক? রিমান্ডে নিয়ে অভিযুক্তদের মুখে সাজানো বক্তব্য বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে অপুর এই ভিডিওর সঙ্গে একটি সিসিটিভি ফুটেজও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে এসে অপুর সঙ্গে কথা বলছেন।
সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, অনেকে বলবেন, এটি আসিফ ভুইয়াকে ফাঁসানোর চক্রান্ত। তবে ঘটনাটি কি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়? উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এমন ভিডিওসহ অভিযোগ অবশ্যই চাঞ্চল্যকর।
তিনি আরো যোগ করেন, এনসিপির অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও অতীতে নিয়োগ বাণিজ্য, দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে যখন ভিডিও ভাইরাল হয়, তখন শোকজ করা হচ্ছে।
