নিজস্ব প্রতিবেদক | ৬ই আগস্ট, ২০২৫
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংবিধানের ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর অতিরিক্ত কোনো বিষয় সংযোজন করতে দেয় না। শুধুমাত্র এ সময়কালই আমাদের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন এবং অস্থায়ী বিধান হিসেবে গণ্য।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করার পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রবর্তনকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে, সংবিধান লঙ্ঘনকে নাশকতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও উচ্চ রাষ্ট্রদ্রোহিতার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এরপর ৫ম সংশোধনী রায়ে আদালত সংসদকে নির্দেশ দেয় সংবিধানে লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দণ্ডনীয় ব্যবস্থা সংযোজনের, এবং এ নির্দেশনার আলোকে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৭ক যোগ করে অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলকে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ৭খ তে উল্লেখ করা হয়েছে ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।’
তাই ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর বাইরে সংবিধানে আর কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাগুলো বহু সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেছে। যেমন ৩,২৪০ জন পুলিশ সদস্য হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নিরপরাধ বেসামরিক জনজীবনের প্রাণহানি ও সম্পত্তি ধ্বংস যা ভবিষ্যতে পূর্ণ অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ইতিহাসে এক অভিশাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। অতএব ইতিহাস আগামীতে অবশ্যই ২০২৪ সালের জুলাই সন্ত্রাসের বিচার করবেই।
বর্তমান ঘোষণাপত্র যারা ঘোষণা করেছেন, এটা ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবেই ভয়াবহ মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এটি সাংবিধানিক আদেশের বাইরে সম্ভাব্য বিপদের একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
