নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩ আগস্ট ২০২৫
গত বছরের ১৫ই জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলা ছিল বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সুপরিকল্পিত নাটক, যা বাস্তবায়ন করা হয় ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী শিবিরের গুপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে।
এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বিজয় একাত্তর হলের ছাত্রলীগ নেতা ও ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী হাসান সাইদ, যিনি শিবিরের গুপ্ত সদস্য হিসেবে পরিচিত।
সূত্রের দাবি, ১৫ই জুলাই ঢামেকে আহতদের উপর হামলার ঘটনাটি শিবিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো হয়েছিল, যাতে আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থন বাড়ে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এই ঘটনার নেতৃত্ব দেন হাসান সাইদসহ শিবিরের গুপ্ত সদস্যরা।
৫ই আগস্টের পর তিনি শিবিরের গুপ্ত সাথী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিজয় একাত্তর হলে সংঘর্ষ সৃষ্টিতে ছাত্রলীগের ভেতর থেকে স্যাবোটাজ করার কৃতিত্বের কারণে তাকে প্রাথমিকভাবে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এদিকে, ৫ই আগস্টের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানের তত্ত্বাবধানে হাসান সাইদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে লেদার ইনস্টিটিউটে বিভাগীয় পরীক্ষা দিতে গেলে কিছু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এই ঘটনাও শিবিরের গ্রুপিং রাজনীতির কারণে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসান সাইদকে ছাড়াতে শিবিরের ঢাবি শাখার সভাপতি এস.এম ফরহাদ, সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম, বর্তমান সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান এবং শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক নূর ইসলাম নূর জোরালো তৎপরতা চালান।
অন্যদিকে, ১৫ই জুলাইয়ের ঢামেকের ঘটনার দায় সম্পূর্ণ ছাত্রলীগের ওপর চাপানো হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে আন্দোলনকারীদের নামে জঙ্গিরা সেদিন আহত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এর ফলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরবর্তীতে ঢামেকের পরিবর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
হাসান সাইদের রাজনৈতিক পটভূমি
হাসান সাইদ ঢাবি ছাত্রলীগের সঞ্জিত-সাদ্দাম কমিটির মেয়াদ শেষে একদিনের এক্সটেনশন কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তাকে এই পদ দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলামের (সম্ভাব্য) সুপারিশ ছিল।
তবে এই পদ পাওয়ার জন্য ব্যাপক দেনদরবার হয়েছিল। বর্তমান কমিটিতে তিনি তানভীর হাসান সৈকত গ্রুপের অনিয়মিত হল প্রার্থী ছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
