শুধুমাত্র বাংলাদেশের সাথেই কেন গোপন নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ?

শুধুমাত্র বাংলাদেশের সাথেই কেন গোপন নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ?
শেয়ার করুন
-হাসান মুরশেদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার, বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজার একটি ভিডিও আলাপ দেখলাম। দুটি বিষয়ে কথা বললেন- নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট(এনডিএ) ও কার্যকর শুল্কের মোট পরিমান।

মোর্তোজা সুন্দর বলেন। আধো আধো নরম বুলি। তাঁর স্কুল অফ ওরিয়েন্টেশনের ড.ইউনুস, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসানও এভাবে কথা বলেন। আধো আধো নরম বুলিতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এনডিএ সমালোচকদের মৃদু বকেও দিলেন, যেনো তারা সমালোচনা করার আগে একটু পড়াশুনা করেন।

সমালোচকরা বলছিলেন- এরকম এনডিএ বা গোপন চুক্তি আর কোন রাষ্ট্র করেনি। গোলাম মোর্তোজা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ট্যারিফ আলোচনারত সকল রাষ্ট্রই নাকি এনডিএ করেছে। এরকম সকল রাষ্ট্রের মধ্যে অন্তত: কয়েকটির নাম তিনি বলতে পারতেন, বলেননি।

যাই হোক, আমার জানা বুঝার টুলস হচ্ছে একাধিক এআই। কিছু জানতে হলে, বুঝতে হলে টুলসগুলো ইউজ করি, চেষ্টা করছি দক্ষতা অর্জনের। ডাটা নিয়ে কাজ আমার পেশার অংশ। এআই টুলস অনেক কিছু সহজ করেছে, এগুলোর সাথে যথাযথ আলোচনা চালিয়ে যেতে পারলে যে কোন বিষয়ে অনেক গভীর তথ্য খুঁড়ে বের করা যায় উইথ প্রপার রেফারেন্সেস।

তো, ডিগিং করে পেলাম। চুড়ান্ত পর্বে যে ২০টি দেশের সাথে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছিলো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নিয়ে, এর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া এনডিএ করেছে।

তবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এনডিএর মধ্যে বিরাট ফারাক আছে। যেখানে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন পর্বের শুরুতে ব্যবসায়ীরা ছিলেন না, সেখানে মালয়েশিয়া তাদের ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়েই নেগোসিয়েশন করেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা এনডিএ’র শর্ত জানতেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সংসদকে অবগত করেছেন, গোপন রাখার শর্তে একটি নেগোসিয়েশন চলছে। তিনি এ নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে নেগোসিয়েশনে মালয়েশিয়া রেড লাইন অতিক্রম করবে না। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া রেড লাইন অতিক্রম করেনি। বানিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন- তাদের আভ্যন্তরীন শিল্পে ভর্তুকী প্রত্যাহার, অধিক পরিমানে মার্কিন পণ্য কেনা, সর্বোপরি সার্বভৌমত্ব বিষয়ে তাঁরা আপোষে রাজি হননি। ফলে ট্যারিফ না কমে উল্টো ১% বেড়ে গেছে। মালয়েশিয়ার এনডিএ কোন লিখিত, আইনী বাধ্যবাধকতায় ছিলো না। স্রেফ নেগোসিয়েশন চলাকালীন সময় তথ্য গোপন রাখার কুটনৈতিক শিষ্টাচার। ( কেউ এই তথ্যগুলো ভেরিফাই করতে চাইলে Malaysiakini.com সাইটে চেক করে নিতে পারবেন)।

অপরদিকে বাংলাদেশের কৃত এনডিএ একটি লিখিত, গোপন চুক্তি যা বাংলাদেশকে বহন করে যেতে হবে। এই সরকারেরই ঘনিষ্ঠজন ড.দেবপ্রিয় জানিয়েছেন এর আগে বাংলাদেশ এরকম কোন গোপন চুক্তি করেনি কারো সাথে। ব্যাবসায়ী নেতৃত্বের ক্ষোভ জানা গেছে পত্রিকা মারফত যে, নেগোসিয়েশন পর্বে তাঁদেরকে রাখা হয়নি।

আবার বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদ জানাচ্ছে- “কোনো চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (MoU) যা বাংলাদেশ ও অন্য কোনো রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সম্পাদিত হয়, তা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। তবে রাষ্ট্রপতি এই চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের ব্যতিক্রম ঘটাতে পারেন যদি তিনি মনে করেন এটি জাতীয় নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে উপযোগী নয়।”

সংসদ নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে কি জানানো হয়েছিলো? সেরকম কোন সংবাদ চোখে পড়েনি। অবশ্য যেখানে সংবিধান বাতিলেরই তোরজোড় চলছে সেখানে এই প্রশ্ন তোলা অবান্তর।

আমি গোলাম মোর্তোজার মতো আধো আধো বুলিতে কথা বলতে জানি না। তিনি তাঁর ভিডিও আলাপের দ্বিতীয় প্রসঙ্গে সত্য বলেছেন। রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কান্ট্রিওয়াইজ ফিক্সড হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হবে আগের পণ্যভিত্তিক টারিফ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা ২০%+১৫% হতে পারে, ২০%+১৬.৫% হতে পারে, কোন পন্যে আগে ০ ট্যারিফ থাকলে এখন সেটি ২০%+০% হবে।

তবে প্রথম প্রসঙ্গ অর্থ্যাৎ এনডিএ বিষয়ে তার কথা সত্য বলে মানার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনো পাইনি।

 

Visited 10 times, 1 visit(s) today