গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় পলাতক গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নেতা ও বৈছা সমন্বয়ক অপু গ্রেপ্তার

গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় পলাতক গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নেতা ও বৈছা সমন্বয়ক অপু গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী গুলশানে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সমন্বয়ক পলাতক জানে আলম অপুকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

১লা আগস্ট, শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুকে ওয়ারী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

জানা গেছে, জানে আলম অপু গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দাঙ্গায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। গত ২৬শে জুলাই চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে, গত ৩০শে জুলাই বৈছা নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলায়মান রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করে পুলিশ। যিনি একই চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, বৈছা নেতা রিয়াদের নাখালপাড়ার বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে ২০ লাখ টাকার এফডিআর নথি উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২৬শে জুলাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদাবাজির সময় রাতে ওই বাসা থেকে রিয়াদসহ ৪ জন সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ২৭শে জুলাই গুলশান থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন- বৈছার ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সংগঠনের দুই সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াদ। গ্রেপ্তারের পর সংগঠন থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া, এ ঘটনার পর বৈছা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারাদেশে সব কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম। এরপর থেকেই একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করে সারাদেশে বৈছা নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের খতিয়ান।

Visited 18 times, 1 visit(s) today