নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলদাদপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকার লোকজন। একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গত শনিবার ও রবিবার দুই দফায় হামলা চালানো হয় গ্রামটিতে। হামলাকারীরা ছিল সুসংগঠিত, এবং তারা আগে থেকেই মিছিল ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেয়। অথচ এই বিষয়ে পুলিশ ছিল চরম নিষ্ক্রিয় ও উদাসীন।
গত রোববার দুপুর ২টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সিঙ্গেরগাড়ি বাংলাবাজার থেকে কয়েক শ মানুষ একটি মিছিল নিয়ে রওনা দেন পাশের রংপুর জেলার আলদাদপুর গ্রামের দিকে। পথে বাড়তে বাড়তে তা কয়েক হাজারে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইকে ঘোষণা দিয়ে বের করা এ মিছিলের মধ্যেই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার প্রস্তুতি। আগে থেকেই মাইকিং করে মানুষ জড়ো করা হয়েছিল, অথচ পুলিশ তৎপর হয়নি। প্রশাসন ছিল নির্বিকার।
মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিজ চোখে দেখেছি, পুলিশের গাড়িতে একজন এসআই ও চালক ছিলেন। আমি অনুরোধ করেছিলাম আমাকে সহায়তা করার জন্য, কিন্তু তারা পিছিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন ছিল।
স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা আলদাদপুরে প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রেফতার করা পাঁচজনের সবাই কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
হাজিরহাট, পাড়ের হাট ও সিঙ্গেরগাড়ি বাংলাবাজারের অন্তত ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই দিন মিছিলে বহু অপরিচিত তরুণ ছিলেন, যাদের আচরণ ছিল উসকানিমূলক।
তারা বলেন, ‘আমরা পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তারা কিছুই করেনি। ওদের চোখের সামনেই হামলা হয়েছে, অথচ তারা দাঁড়িয়ে দেখেছে।’
মাগুরা ইউপি সদস্য রুহুল আমিন ও বেতগাড়ির ইউপি সদস্য পরেশ চন্দ্রও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেন। তাদের মতে, পুলিশ যদি যথাযথ দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এই ধরনের বর্বর হামলা প্রতিহত করা যেত। প্রশাসনের লোকজনও নীরব ছিলেন।
হামলার পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত বা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা আসেনি। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই গ্রামের বাইরে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই ঘটনার দ্রুত বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বহীনতার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নিন্দা জানিয়েছে সরকারের নির্লিপ্ততায়।
