নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫শে জুলাই, ২০২৫
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগ বিরোধিতাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে বলে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতনের প্রেক্ষাপটে এনসিপি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে এই কৌশল কতটা টেকসই এবং সব পক্ষের সমর্থন পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে গত ৮ মে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জোরালো করা হয়। এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও হেফাজতে ইসলামের মতো ইসলামপন্থী দল ও সংগঠনের সমর্থন পাওয়া গেলেও, গণপরিষদ নির্বাচন বা নতুন সংবিধানের মতো বিষয়ে সব পক্ষের ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. সাব্বির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “শেখ হাসিনা বা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য তৈরি করা যতটা সহজ, অন্য ইস্যুগুলোতে ততটা সহজ নয়।” তিনি আরও জানান, বিএনপি ও জামায়াতের মতো দলগুলোর স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে এনসিপির এই আন্দোলন সবার সমর্থন নাও পেতে পারে।
এনসিপির এই আন্দোলন গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে সমাবেশের সময় বাধার মুখে পড়ে এবং সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনাগুলো দলটির কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এনসিপি, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়লে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক মাঠে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।” তবে তিনি এও মনে করেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানকে কঠিন করে তুলবে।
এনসিপির আন্দোলন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতে সফল হলেও, দলটির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ বিরোধিতার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক টিকে থাকা কঠিন হতে পারে, কারণ এটি দলের নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির অভাবকে তুলে ধরে।
এনসিপি এখনো গণপরিষদ নির্বাচন ও নতুন সংবিধানের মতো ইস্যুতে স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিতে পারেনি, যা তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘নির্বিচারে হত্যা’র অভিযোগ উঠেছে, যা দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির আন্দোলনকে অনেকে কেবল আওয়ামী লীগ বিরোধিতার রাজনীতি হিসেবে দেখছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।
