মিরপুর ডিওএইচএসে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডাকাতি, আটক ৫

মিরপুর ডিওএইচএসে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডাকাতি, আটক ৫
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মালামাল লুটের সময় পাঁচজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তারা সবাই সাবেক সেনাসদস্য বলে জানিয়েছে একটি সামরিক সূত্র।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে। ডিওএইচএসের বাসা নম্বর ৮০৭, রোড নম্বর ১১, এভিনিউ নম্বর ৭–এ (প্লট মালিক মেজর অবসরপ্রাপ্ত সাবের আলী) পঞ্চম তলায় ভাড়াটিয়া বোরহানের বাসায় প্রবেশ করে একটি দল। তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়।

এই দলে ছিলেন বিএ-৬২৮৭ লেফটেন্যান্ট অবসরপ্রাপ্ত ইফতেখার, যিনি ২০০৭ সালে ৪৪তম লং কোর্স থেকে মেডিক্যাল বোর্ড আউট হয়েছিলেন, কর্পোরাল অবসরপ্রাপ্ত মুকুল ও আরও তিনজন। তারা বাসার মালিককে না পেয়ে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ব্যাগে ভরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় তাদের তথ্যদাতা সোর্স হারুনুর রশিদ ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করেন। তিনি মোটরসাইকেলে তাদের গাড়ির পিছু নেন এবং “ডাকাত যাচ্ছে” বলে চিৎকার করে জনসাধারণকে সতর্ক করেন। এতে প্রাইভেট কারটি এনডিসি চেকপোস্টের কাছে অন্য একটি গাড়ির কারণে আটকে যায়। সেখানে উপস্থিত জনতার সহায়তায় পাঁচজনকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কর্পোরাল মুকুল জানান, মিরপুর ১০ নম্বরে এক চায়ের দোকানে হারুনুর রশিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। হারুন জানান, এক ব্যক্তির কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা অভিযানে যান।

লেফটেন্যান্ট ইফতেখার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির পরিচালিত ‘জাস্টিস ফর কমরেডস’ নামের একটি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তিনি ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরের ঘনিষ্ঠ বলেও জানায় সূত্রটি। কর্পোরাল মুকুল ‘সহযোদ্ধা’ নামে একটি বিতর্কিত সেনা গ্রুপের সদস্য।

তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে পাঁচটি মোবাইল ফোন, ডায়মন্ড জুয়েলারি, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, তিনটি ঘড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী, ইয়াবা ট্যাবলেট, হেডফোন, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস।

আটককৃতদের পরে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

Visited 13 times, 1 visit(s) today