ইউনূস সরকারের নীতিগত ব্যর্থতায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি

ইউনূস সরকারের নীতিগত ব্যর্থতায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল, তার চেয়ে কম আদায় হয়েছে রাজস্ব। এবছর আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সংশোধিত লক্ষ্য থেকে প্রায় ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা (১৯.৯৮ শতাংশ) কম, অর্থাৎ তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। কম রাজস্ব আদায় হওয়ায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্নেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু কয়েক মাসের আন্দোলনের ফল নয়; বরং ইউনূস সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও কর-শুল্ক সংস্কারে উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিগত অর্থবছরগুলোর তুলনায় জুন মাস রাজস্ব আহরণে সব সময় ‘সফল’ ধরা হয়। অথচ এবার অস্থির প্রশাসনিক পদক্ষেপ—যেমন আকস্মিকভাবে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি ভাগে ভাঙা এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টানা দেড় মাস ধরে চলা আন্দোলন—আদায়কে প্রায় অচল করে দেয়। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুনে রাজস্ব এসেছে মাত্র ৪৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা কম।

সরকার যদি সময়োচিত ও কার্যকর সমাধান দিত, তবে অর্থনীতির এই ব্যর্থ ধাক্কা এড়ানো যেত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন এই ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সীমিত প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রার এমন বিশাল ঘাটতি প্রমাণ করে—অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার জন্য সরকারের প্রস্তুতি ও সংকট-ব্যবস্থাপনা‐ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যর্থতা আছে।

গত আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং এনবিআর ভাঙার ঘোষণার বিরুদ্ধে দেড় মাসব্যাপী কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে প্রায় তিন মাস অর্থনীতি কার্যত স্থবির ছিল। এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

রাজস্ব প্রশাসন নিয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত, পরে ‘সংশোধিত’ লক্ষ্যমাত্রা—এসব ইঙ্গিত দেয় যে বাজেট-প্রস্তুতির সময়ই সরকারের সমন্বয় ছিল না। প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাট-আদায়, আয়কর নথিভুক্তির সম্প্রসারণ, শুল্ক ফাঁক রোধে স্ক্যানার-স্বয়ংক্রিয়করণ—যে সংস্কারগুলো বহুবার ঘোষিত, তার বেশির ভাগই কাগুজে রয়ে গেছে।

এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, জুনে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক অন্তত ২ হাজার কোটি আদায় হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলন-সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। শেষ সময়ে কিছু বিলম্বিত কর জমা পড়লেও মূল ঘাটতি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

অর্থনীতিবিদেরা বলেন, রাজস্ব প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রেখে নীতি-স্থিরতা ও দ্রুত সংস্কার ছাড়া এই পতন কাটিয়ে ওঠা যাবে না। অন্যথায় সরকারের উন্নয়ন-খরচ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো ঝুঁকিতে পড়বে—আর সে দায় সরাসরি সরকারের কাঁধেই থাকবে।

Visited 9 times, 1 visit(s) today