নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২ জুলাই ২০২৫: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আজ একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৪৮১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় ৩২০ জন খুন হয়েছেন। এই তথ্য সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থার ঘাটতি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার উপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনার পাশাপাশি দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন মাসে এককভাবে ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ঘটনাগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারী ও শিশুরা সামাজিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন, যেমন নিম্ন আয়ের গৃহকর্মী, পোশাক শ্রমিক এবং স্বল্পশিক্ষিত নারীরা।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ডাঃ ফৌজিয়া মোসলেম বলেন, “এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র রেকর্ডকৃত ঘটনার প্রতিফলন। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা সামাজিক লজ্জা ও আইনি জটিলতার কারণে রিপোর্ট করা হয় না।” তিনি আরও জানান, সংগঠনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের কাছে কঠোর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্যাতিতদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৪০১ জন নারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৩৪ জন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার এবং ৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এই তথ্যগুলো দেশে নারী নিরাপত্তার অবনতিশীল অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সরকার, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তারা জাতীয় সংসদავস্থানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই প্রতিবেদন সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে এবং এই সমস্যা মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
