আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন ডিসি, ২রা জুলাই ২০২৫: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি আমেরিকা সফরের সময় আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতির উপর জোর দিয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। সোমবার (৩০ জুন, স্থানীয় সময়) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ‘আতঙ্কবাদের মানবিক ক্ষতি’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একত্রিত হয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো দেশেরই এটিকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি শেষ পর্যন্ত সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জয়শঙ্কর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা, যাতে ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হয়েছিল, তা ছিল কাশ্মীরের পর্যটন খাতকে ধ্বংস করার একটি ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’। তিনি এই হামলাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিল। ভারত এরপর ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর উপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার ফলে জৈশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো গোষ্ঠীর ১০০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়।
নিউইয়র্কে নিউজউইকের সিইও দেব প্রগাড়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত আর পারমাণবিক ভীতির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, এবং যে সরকার তাদের সমর্থন বা অর্থায়ন করে, তাদেরও দায়মুক্ত করা হবে না।” তিনি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অবকাঠামোকে ‘কর্পোরেট সদর দপ্তরের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এগুলো প্রকাশ্যে শহরাঞ্চলে অবস্থিত এবং সবাই এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে।
কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে তিনি বলেন, ভারত আশা করে যে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের মতো কোয়াড সদস্যরা আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে বুঝবে এবং সমর্থন করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আতঙ্কবাদের শিকার এবং এর পৃষ্ঠপোষকদের কখনো একই স্তরে বিবেচনা করা যাবে না।”
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ভারতের আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির প্রতিফলন ঘটায়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আতঙ্কবাদ যেখানেই হোক, তা সর্বত্র শান্তির জন্য হুমকি।”
এই প্রদর্শনী, যা ৩০ জুন থেকে ৩ জুলাই এবং ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত জাতিসংঘে প্রদর্শিত হবে, ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোমা হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা এবং পাহালগাম হামলার মতো ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আতঙ্কবাদের ভয়াবহতা তুলে ধরে। জয়শঙ্কর বলেন, “এই প্রদর্শনী কেবল ছবি বা ভিডিওর সংগ্রহ নয়, এটি আমাদের সাধারণ মানবতার একটি বিবৃতি।”
ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, এবং জয়শঙ্করের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভারত আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ে কোনো আপস করবে না।
