ইবির বৈছা সমর্থক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

ইবির বৈছা সমর্থক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ
শেয়ার করুন

ইবি প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বহু ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, অশালীন বার্তা প্রেরণ, ভিডিও কল করা, পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকিসহ নানা অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগে গত ২২শে জুন বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বিভাগের ১৩ জন ছাত্রী। তারা শিক্ষক আজিজুল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। সেখানে নারীদের হয়রানির বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন। অথচ বাস্তবতা হলো তিনি একজন নারী লোলুপ ঘৃণ্য ব্যক্তি।

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ২৮শে জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই শিক্ষককে বিভাগের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করতে তার কিছু সহকর্মী শিক্ষক চাপ সৃষ্টি করছেন এবং অভিযোগকারীদের সমঝোতায় রাজি করাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। কেউ মুখ না খুললেও শেষ পর্যন্ত তারা একত্রিত হয়ে অভিযোগ জানান।

তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আজিজুল ইসলাম ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ভিডিও কল দেওয়া, কল না ধরলে নম্বর কেটে দেওয়ার হুমকি, রুমে ডেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা, বডি শেমিং, প্রিয় ছাত্রীদের দিয়ে জোর করে প্রজেক্ট করানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী পাঁচ ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেকে বিবাহিত হওয়ায় এতদিন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। তবে পরিস্থিতি সহ্যসীমার বাইরে চলে যাওয়ায় কেউ কেউ আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিলেন।

তারা মনে করছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং স্থায়ীভাবে বহিষ্কারই একমাত্র উপযুক্ত ব্যবস্থা। নইলে অন্য শিক্ষার্থীদের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

অভিযোগপত্রে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ‘স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন। কল না ধরায় অডিও কল দিয়ে বলেন, অনেকদিন দেখি না, মোটা হয়েছো না চিকন হয়েছো তা দেখার জন্য ভিডিও কল দিচ্ছি। পরে বলেন, তোমার কি কথা বলার লোক আছে? আমি না বললে তিনি বলেন, এখন বলছো কেউ নাই, পরে দেখবো ক্যাম্পাসে কারও হাত ধরে ঘুরছো।’

তিনি আরও জানান, ক্লাসে তাকে উদ্দেশ্য করে বাজে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, উচ্চতা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ রসিকতা, ব্যক্তিগত জীবন ও মাসিক চক্র নিয়ে অপমানজনক কথা বলেছেন শিক্ষক। এমনকি ভালো রেজাল্টের হুমকি দিয়ে বডি শেমিংও করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা প্রাথমিক তদন্তে কিছু সত্যতা পেয়েছি। তাই তাকে আপাতত সকল দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে, পরবর্তীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১শে মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে যৌন হয়রানি, সমকামিতা এবং রাজনৈতিক মিছিলে ছাত্র পাঠানোর অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়।

Visited 7 times, 1 visit(s) today