জামায়াত নেতার আল্টিমেটামে খিলক্ষেত মন্দির উচ্ছেদ, হিন্দু মহাজোটের বিক্ষোভ মিছিল

জামায়াত নেতার আল্টিমেটামে খিলক্ষেত মন্দির উচ্ছেদ, হিন্দু মহাজোটের বিক্ষোভ মিছিল
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াত নেতার আল্টিমেটামে খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে থাকা একটি অস্থায়ী দুর্গা মন্দির উচ্ছেদের ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভে সনাতনী ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে মন্দির রক্ষার দাবি জানান।

হিন্দু মহাজোটের সভাপতি গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, “কিছু দুষ্টুলোকের কোনো আব্দার থাকলেই মন্দির ভেঙে ফেলা হয়। এটি বারবার সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের নজির তৈরি করছে।”

তিনি মন্দির পুনঃনির্মাণ এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৪ জুন রাতে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন-এর খিলক্ষেত থানার সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মুফতি মাহমুদুল হাসান (ইসলামিয়া সুইট অ্যান্ড বেকারির মালিক) মন্দির ঘেরাও করে। তারা মন্দির কমিটিকে হুমকি দেয় যে, পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে মন্দির না ভাঙলে তারা নিজেরা এসে গুঁড়িয়ে দেবে।

এর দুদিন পর, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে, যেখানে ওই দুর্গা মন্দিরটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উপস্থিত ছিল। উচ্ছেদের সময় হিন্দু নারী-পুরুষ ও পুরোহিতরা সামনে বসে প্রতিবাদ করলেও তাদের সরিয়ে দিয়ে কার্যক্রম চালানো হয়।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মন্দিরটি অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজাসহ নানা ধর্মীয় উৎসবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, আশপাশে বহু অবৈধ স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মন্দিরটিকে টার্গেট করা হয়েছে, যা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানার শামিল।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে কী কারণে শুধুমাত্র মন্দিরটি উচ্ছেদের আওতায় এল, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

Visited 10 times, 1 visit(s) today