নিজস্ব প্রতিবেদক
শারীরিক স্বাস্থ্যরক্ষায় যেমন হাসপাতাল প্রয়োজন, তেমনি মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সিনেমা হল প্রয়োজন, কারণ সুস্থ সংস্কৃতিই পারে মানুষকে মাদক, সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত কর্মকা- থেকে দূরে রাখতে। বর্তমান সংস্কারের ছত্রছায়ায় সংস্কৃতিবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীর আগ্রাসনকালে এসব কথা বলেছেন, দেশের গুণী অভিনেতা জাহিদ হাসান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘উৎসব’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক দমননীতি কাজ করছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাহিদ হাসান বলেন, মানুষের যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের প্রয়োজন, তেমনি তার চেতনার খাদ্যের জন্য প্রয়োজন সিনেমা হল। আমাদের দেশে আজ এমন এক সময়ে আমরা বাস করছি, যেখানে বিনোদনের প্রকৃত মান হারিয়ে যাচ্ছে, আর তার শূন্যস্থান পূরণ করছে সহিংসতা ও অন্ধ বিশ্বাস।
‘উৎসব’ সিনেমায় জাহিদ হাসান অভিনয় করেছেন জাহাঙ্গীর চরিত্রে। চরিত্রটি তাকে এতটাই স্পর্শ করেছে যে শুটিং শেষের এতদিন পরেও তিনি সেই ভাবনায় আচ্ছন্ন।
তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই জাহাঙ্গীর আছে। আমাদের মধ্যে যেমন নায়কত্ব আছে, তেমনি আছে ভিলেনিও। কিন্তু একটা বোধ থাকলে, উপলব্ধির শক্তি থাকলে, আমরা নিজেরাই বদলে যেতে পারি।
বর্তমানে দেশে চলচ্চিত্র মানেই যেন অ্যাকশন কিংবা থ্রিলার, অথচ ‘উৎসব’ এনে দিয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, হাস্যরস ও আবেগের এক ঘন অনুভব। দর্শক এই ব্যতিক্রম গল্পকে গ্রহণ করেছে, এবং এর পেছনে জাহিদ হাসান উল্লেখ করেছেন শিল্পীদের সততা ও মানবিক সম্পৃক্ততাকে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই শুধু পারিশ্রমিকের জন্য কাজ করিনি। প্রত্যেকটি দৃশ্যে আমাদের আবেগ, সততা ও দায়বদ্ধতা ছিল। শিল্পের প্রতি আমাদের এই নিষ্ঠাই সিনেমাটিকে সার্থক করেছে।
করোনা-পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে তাকে কম দেখা গেলেও ‘উৎসব’ দিয়ে আবারো নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় কেন এমন একজন অভিনেতাকে এই শিল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না? কেন নির্মাতারা নির্দিষ্ট গ-ির বাইরে এসে সংস্কৃতিমনস্ক শিল্পীদের বেশি সুযোগ দেন না?
জাহিদ হাসান আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে আমার বোন ফোন করে বললেন, এখানে তো সিনেমা হলই নেই। তাই তাঁরা সিনেমা দেখতে পারছেন না। ভাবতে কষ্ট হয়, দেশের একটি বড় শহরে একটি সিনেমা হলও নেই! এটা কেবল অবহেলা নয় এটা সাংস্কৃতিক সংকোচনের লক্ষণ। এর পেছনে যে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক দমননীতি কাজ করছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসকসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা যেন প্রত্যেকটি জেলায় সিনেমা হল নির্মাণে উদ্যোগী হন। কারণ, একমাত্র সিনেমাই দিতে পারে গুনগত ও সুস্থ বিনোদন।
