নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল খান ডালিমের পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
গতকাল বিকেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরে নতুন ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে কামরুজ্জামান তুষারকে আহ্বায়ক ও এমদাদুল হক মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়।
কমিটিতে ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাতেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মো. রাসেল খান ডালিমকে দলীয় সব পদ থেকে সাময়িক স্থগিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাসেল খান ডালিম “সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে” জড়িত থাকার অভিযোগে তার সদস্য পদ এবং অন্যান্য পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, কমিটি ঘোষণার আগে আরও যাচাই-বাছাই হলে হয়তো এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতা বলেন, “আগে এমন হতো না। কমিটি হলে অন্তত এক-দুই বছর চালাতো। এখন তো ঘোষণা আর বাতিল—একদিনেই দুই নাটক।”
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত আগের আহ্বায়ক কমিটিও টেকেনি বেশিদিন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নানা অভিযোগে সেই কমিটির প্রধান মারুফ হাসানসহ একাধিক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সামান্য সময়ের ব্যবধানে দুইবার কমিটি স্থগিত হওয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীরা কিছুটা হতাশ।
একজন কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা মাঠে ছিলাম, এখনও আছি। কিন্তু নেতৃত্ব আসে-যায়… টিকে না। আমরা তো আর জানি না, কার কমিটিতে কতটা স্থায়িত্ব আছে।”
কেন্দ্র থেকে দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, শিগগিরই বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তবে পিরোজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুরনো সময়ের নেতারা বলছেন, আগে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন দল করাটাই যেন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে।
